ধর্ম বদলে বিয়ে, অথচ স্ত্রীকে ভালোই বাসতেন না কিশোর কুমার! মধুবালার জীবনের ট্রাজেডি জানলে শিউরে উঠবেন

বলিউডের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত জুটি ছিলেন কিশোর কুমার ও মধুবালা। চারবার বিয়ে করলেও কিংবদন্তি গায়ক-অভিনেতা কিশোর কুমারের কোনো সংসারই এক দশকের বেশি টেকেনি। তবে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, রূপোলি পর্দার ‘ভেনাস অব ইন্ডিয়া’ মধুবালার সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বরাবরই বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যময় অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
দিলীপ কুমার থেকে কিশোর কুমার
কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ নয় বছর চুটিয়ে প্রেম করেছিলেন মধুবালা। সেই সম্পর্কের কথা ইন্ডাস্ট্রির সকলেই জানতেন। কিন্তু ১৯৫৬ সালে ‘নয়া দৌড়’ ছবির শুটিং চলাকালীন নানা জটিলতার জেরে সেই সম্পর্কে চিরতরে ইতি টানেন তাঁরা। দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই মধুবালার জীবনে আসেন কিশোর কুমার।
সেসময় তাঁদের ব্লকবাস্টার ছবি ‘চলতি কা নাম গাড্ডি’-র শ্যুটিং চলাকালীন দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই বন্ধুত্ব দ্রুত প্রেমে এবং পরবর্তীতে পরিণয়ে রূপ নেয়। মধুবালাকে বিয়ে করার জন্য নিজের ধর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করেছিলেন কিশোর কুমার। ১৯৬০ সালের অক্টোবর মাসে দীর্ঘ দু’বছর প্রেমের পর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের আগেই মারাত্মক রোগের হানা
কিন্তু এই বিয়ের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের আগেই ধরা পড়ে যে, মধুবালার হৃদযন্ত্রে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। মধুবালা ও কিশোর কুমারের এই দাম্পত্য জীবন নিয়ে পরবর্তীতে অভিনেত্রীর বোন মধুর ভূষণ এক সাক্ষাত্কারে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, মধুবালার হার্টের কন্ডিশনের কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে শারীরিক সম্পর্ক রাখতে এবং গর্ভধারণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন। আর এই কারণেই নাকি বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই অসুস্থ স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন কিশোর কুমার। যদিও পরবর্তী সময়ে কিশোর কুমার এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। উলটে তিনি এও দাবি করেছিলেন যে, তিনি কখনই মধুবালাকে ভালোবাসেননি! কিশোর কুমারের বক্তব্য ছিল, মধুবালা তাঁর কাছে কেবল তাঁর বন্ধু দিলীপ কুমারের প্রাক্তনী ছিলেন, কিন্তু অভিনেত্রী নিজেই তাঁকে বিয়ের জন্য জোরাজুরি করায় তিনি বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিলেন।
অকাল প্রয়াণ ও কিশোর কুমারের অন্যান্য বিয়ে
শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটানোর পর ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান মধুবালা। তাঁর অকাল প্রয়াণ সেসময় গোটা বলিউডকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
মধুবালার মৃত্যুর কয়েক বছর পর, ১৯৭৬ সালে অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে বিয়ে করেন কিশোর কুমার। কিন্তু সেই বিয়েও মাত্র দুই বছর টেকে। এরপর ১৯৮০ সালে লীনা চন্দভারকরকে বিয়ে করেন তিনি, যা তাঁর জীবনের শেষ বিয়ে ছিল। উল্লেখ্য, কিশোর কুমারের প্রথম স্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি শিল্পী ও অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতা।