RAC যাত্রীদের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর! বেডরোল ও কম্বল নিয়ে কড়া নির্দেশ দিল রেল মন্ত্রক

রিজার্ভেশন অ্যাগেইনস্ট ক্যানসেলেশন বা RAC টিকিটে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য এক দারুণ স্বস্তির খবর নিয়ে এল ভারতীয় রেল। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন রেল জোন থেকে নানা অভিযোগ আসার পর এবার কড়া পদক্ষেপ করল রেল মন্ত্রক। সমস্ত রেল জোনকে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়েছে যে, RAC যাত্রীদেরও অন্যান্য সম্পূর্ণ সংরক্ষিত (Confirmed) শ্রেণির যাত্রীদের মতো সমস্ত নিয়ম মেনে বেডরোল ও কম্বল সরবরাহ করতে হবে।
কেন জারি হলো এই নির্দেশ?
রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় সমস্ত রেল জোন থেকেই অভিযোগ আসছিল যে, বহু ট্রেনেই RAC যাত্রীদের পর্যাপ্ত বেডরোল কিট দেওয়া হচ্ছে না বা অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে যাত্রাপথে চরম অসন্তোষ ও সমস্যার মুখে পড়ছিলেন সাধারণ যাত্রীরা।
এই পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে রেল মন্ত্রক একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সমস্ত জোনকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, RAC যাত্রীরাও সম্পূর্ণ বৈধ সংরক্ষিত টিকিট নিয়েই ট্রেন সফর করেন। ফলে তাঁরাও অন্য যাত্রীদের মতো বেডরোল পাওয়ার সমান অধিকারী। যদি কোনো ট্রেনে এই পরিষেবা না দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতে এবং অহেতুক অভিযোগ এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
RAC ব্যবস্থা এবং কম্বল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বড় আপডেট
ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী, RAC ব্যবস্থায় একটি মাত্র লোয়ার বার্থে দুই জন যাত্রীকে বসার এবং রাতে প্রয়োজনমতো তা ভাগ করে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়। টিকিট সম্পূর্ণ কনফার্ম না হলেও যাত্রীরা এর মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পান। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে বা কম্বল থেকে বঞ্চিত হন এই যাত্রীরা। নতুন এই নির্দেশ কার্যকর হলে রাতের ট্রেনে যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ RAC যাত্রী সরাসরি উপকৃত হবেন।
পাশাপাশি, সম্প্রতি লোকসভায় রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ট্রেনে যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া কম্বলগুলি অত্যন্ত নিয়ম মেনে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কম্বল কমপক্ষে মাসে একবার ধোয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বেডশিট, বালিশের কভার ও তোয়ালে প্রতিবার ব্যবহারের পরপরই লন্ড্রিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। রেলের এই জোড়া পদক্ষেপে ট্রেন সফর আরও আরামদায়ক ও আস্থার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।