‘বোরখা পরা’ বিতর্ক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় মহুয়া, আগামী সপ্তাহেই শুনানি!

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া শর্তসাপেক্ষ নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আগামী সপ্তাহেই শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলার নেপথ্য পটভূমি
গত ১ জুলাই নদিয়ায় এক রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ ওঠে, সেইদিন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ‘বোরখা পরা’ নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ওই সাংসদ।

সেদিন মহুয়া মন্তব্য করেছিলেন,

“এভাবে ডিম ছোড়ার থেকে বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন। তাহলে আপনাকে আর কেউ দেখতে পাবে না। আপনার বিরুদ্ধে তাহলে অভিযোগ হবে না।”

এই মন্তব্যের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কী ছিল?
ওই মামলার ভিত্তিতেই আইনি রক্ষাকবচের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, পুলিশ আইন মোতাবেক এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি, সংসদের চলমান অধিবেশন মিটলে মহুয়া মৈত্রকে আগামী ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় সরাসরি থানায় গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা দিতে হবে।

আদালতের পক্ষ থেকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, সাংসদ হাজিরা দিতে গেলে পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে তাঁর দিকে কোনও ডিম ছোড়া না হয় কিংবা তিনি অন্য কোনও ধরনের হেনস্থা বা হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে আদালত এও জানিয়েছিল যে, আগামী ৫ অক্টোবর অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ (যেমন গ্রেফতারি) করতে পারবে না।

সুপ্রিম কোর্টে কেন গেলেন মহুয়া?
হাইকোর্ট তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার এবং থানায় গিয়ে হাজিরা দেওয়ার যে নির্দেশ বহাল রেখেছিল, মূলত তার আইনি যৌক্তিকতাকেই চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছেন মহুয়া মৈত্র। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের কোন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় এবং আদালত কী রায় দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও আইনি বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *