কাজের মেয়েরাও পাবেন মাতৃত্বকালীন ছুটি? বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহে বিরাট ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর!

বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ফের জোরালোভাবে সামনে আনল সরকার। বুধবার আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নবজাতকের জন্য মায়ের দুধের অপরিহার্যতা তুলে ধরার পাশাপাশি, সমাজের অবহেলিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী মন্তব্য করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নবজাতকের সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব
শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য জন্মের পর থেকেই মায়ের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
“শিশুর জন্মের পর প্রথম ঘণ্টায় দুধ খাওয়ান। প্রথম দুধ কখনও ফেলে দেবেন না। টিকাকরণের প্রথম পদক্ষেপ এই বুকের দুধ। এতেই শিশুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে।”
তাঁর মতে, শিশু জন্মের পর প্রথম যে মাতৃদুগ্ধ পান করে, তা তার শরীরে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। এই বিষয়ে কেবল পরিবার নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও আরও বেশি সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
অসংগঠিত ক্ষেত্রের মায়েদের দুর্দশা ও মন্ত্রীর উদ্বেগ
বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসে কর্মরত মহিলারা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও, সমাজের অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত বহু মহিলা সন্তান প্রসবের পরও প্রয়োজনীয় ছুটি পান না। ফলে নবজাতককে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো এবং মাতৃত্বের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল সুরে প্রশ্ন তোলেন:
“আমরা কখনও ভেবেছি যে কাজের মেয়েটা কতদিন মাতৃত্বের জন্য ছুটি পায়? সে যদি ৬-৮ ঘণ্টা কাজে থাকে, তাহলে কখন ব্রেস্ট ফিডিং হবে?”
এই কঠিন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংস্থায় নয়, বরং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রেও সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা চালুর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট মত, মাতৃত্বকালীন ছুটি কেবল কোনও কর্মীর ব্যক্তিগত অধিকারই নয়, এটি সরাসরি একটি শিশুর মৌলিক স্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।
হাসপাতালগুলিতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের ওপর জোর
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে কেবল ছুটি বা সচেতনতার প্রচারই নয়, পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকটিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেডিকেটেড ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ বা স্তন্যপান কক্ষ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মাতৃত্বকালীন ছুটির পরিধি বাড়াতে এক বৃহত্তর সামাজিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার বার্তাই জোরালোভাবে তুলে ধরল।