সতর্কবার্তার ১৫ দিন কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হুমায়ুন কবীর! বিধানসভায় ঠিক কী কথা হলো দুজনের?

বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে যাঁর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে বলেছিলেন, “শেষবার সতর্ক করছি, শুধরে যান। সবক শেখানোর সময় এসে গিয়েছে”—অবশেষে সেই নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন! শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করে এই বৈঠকের আসল কারণও সকলের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী কারণে এই সাক্ষাৎ?
হুমায়ুন কবীর তাঁর ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এটি সম্পূর্ণ একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে এই বৈঠকে মূলত মুর্শিদাবাদ জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কিছু বিশেষ দাবি ও বঞ্চনার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলেই দাবি করেছেন এই বিধায়ক।

বৈঠকে বিশেষ করে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেই দাবিগুলি হলো:
১. হিমঘর নির্মাণ: নওদা বিধানসভার এলাকার প্রান্তিক চাষিদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সেখানে একটি আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হিমঘর (Cold Storage) তৈরি করা।
২. নতুন সেতু নির্মাণ: রেজিনগর বিধানসভার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট দূর করতে ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা।

হুমায়ুন কবীরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সমস্ত বক্তব্য শুনেছেন এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে একটি ইতিবাচক মনোভাবও প্রকাশ করেছেন।

অতীত সংঘাতের প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গত জুন মাসেই রেজিনগরে একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এই বিধায়ক। যার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল। এরপর বিধানসভায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তার মুখোমুখি হওয়া এবং পরবর্তীতে এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে এই জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *