প্রাইমারি শিক্ষকদের ‘সারপ্লাস’ বদলিতে বড় ধাক্কা! হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্বস্তিতে শিক্ষকরা

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি নিয়ে একটি বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের এখনই জোর করে বা নিয়ম মেনে ‘সারপ্লাস’ (Surplus) বদলি করা যাবে না।

সম্প্রতি ‘সারপ্লাস’ শিক্ষক বদলির গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা এসওপি (SOP) তৈরি করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেই এসওপি মেনে সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এমনকি শিক্ষকরা বদলির আবেদনও জমা করতে পারবেন, তবে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কাউকেই এখনই জোরপূর্বক অন্য স্কুলে বদলি করা যাবে না। বুধবার এই কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন তৈরি হয়েছিল এই বিতর্ক?
সম্প্রতি ‘সারপ্লাস’ বদলি নিতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের আবেদন জানাতে বলেছিল রাজ্য সরকার। পরবর্তীতে বাকিদের ক্ষেত্রেও এই বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। সেই মতো দু’দফায় বদলির আদর্শ কার্যপদ্ধতি প্রকাশ করে সরকার—প্রথমে ১৫ জুলাই এবং পরবর্তীতে ২৪ জুলাই নতুন করে একটি এসওপি প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই দুটি এসওপি-র কার্যকারিতা ও নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিক্ষকদের একাংশ।

আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার (RTE) আইন অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য ১ জন করে শিক্ষক থাকাকে আদর্শ অনুপাত হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু রাজ্যের বহু প্রাথমিক স্কুলেই এই ছাত্র-শিক্ষকের আদর্শ অনুপাত বজায় নেই। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি রয়েছেন, তো কোথাও আবার শিক্ষকই নেই। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-শিক্ষকের এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘সারপ্লাস’ বদলির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

মামলাকারীদের মূল আপত্তি কোথায়?
আদালতে মামলাকারী শিক্ষকদের প্রধান বক্তব্য ছিল যে, ‘সারপ্লাস’ বদলির ক্ষেত্রে বয়সের মাপকাঠি নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে ঠিক কারা অগ্রাধিকার পাবেন—বয়সে প্রবীণ হওয়ার ভিত্তিতে নাকি কর্মজীবন বেশি হওয়ার ভিত্তিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

এ দিন মামলাটি বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েকের বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠলে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, নতুন ওই আদর্শ কার্যপদ্ধতির ভিত্তিতে এখনই কাউকে চূড়ান্ত বদলি করা যাবে না। তবে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ায় কোনো বাধা নেই।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *