মমতার ভরসার পাত্র রাজীব কুমারও কি দলবদল করছেন? কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার ১৫ দিন কাটতে না কাটতেই রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারের (Rajib Kumar) রাজনৈতিক গতিবিধি ঘিরে ফের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই যখন অন্য শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তখন প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদরা
মূলত রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং পানীয় জল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার জন্য বাংলার সাংসদদের একটি বিশেষ বৈঠকে ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। সংসদ চত্বরে আয়োজিত সেই বৈঠকে বিজেপি এবং এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার ও লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। আর সেই বৈঠকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকের ফাঁকেই এনসিপিআই সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলতে দেখা যায় রাজীব কুমারকে। পরবর্তীতে কাকলী নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি ছবিও পোস্ট করেন, যেখানে রাজীবকে তাঁর পাশেই দেখা গিয়েছে। যদিও এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে জানানো হয়েছে, ঘরে ঘরে পাইপলাইনে জল পৌঁছানোর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি নিয়েই এই আলোচনা ছিল।

অতীতে মমতার ‘সৈনিক’ ও রাজীবের ভূমিকা
এ রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি তথা আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্কের কথা রাজনৈতিক মহলে সর্বজনবিদিত। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে সিবিআই হানার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে মমতা তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান।

তবে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই বহু পুরনো ‘সৈনিক’ দল ছেড়েছেন—কেউ ‘ভালো তৃণমূল’ তকমা নিয়ে সরেছেন, কেউ আবার এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। অতীতে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি রাজীবকে। যদিও সেই নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি একুশে জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চে তিনি সশরীরে হাজির হন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠকে যোগদান নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন উসকে দিয়েছে।

কী নিয়ে কথা হয়েছিল বৈঠকে?
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই রাজ্যের ২৬০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রীকে উন্নয়নের কাজে সাংসদদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি তাঁর এলাকার পরিশ্রুত পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কাকলী ঘোষ দস্তিদার ও রাজীব কুমারের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছেন। সব মিলিয়ে, রাজীব কুমারের আগামী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *