খাদের কিনারা থেকে বিশ্বকে চমক! বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে এন্ট্রি নিলেন ভারতের প্রজ্ঞানন্দ?

সেন্ট লুইস র‍্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজ টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ফর্মে রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। ১০ জনের শক্তিশালী প্রতিযোগীদের তালিকায় র‍্যাপিড পর্বের শেষে এককভাবে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন এই ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয়, ৪টিতে ড্র এবং পকেটে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছেন তিনি।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা ও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন
প্রজ্ঞানন্দের সবচেয়ে বড় গুণ, ব্যর্থতা থেকে দ্রুত শিক্ষা নেওয়া। গতবার এই টুর্নামেন্টের র‍্যাপিডে একটিও ম্যাচ জিততে না পেরে ২০২৪ সালে তালিকার একেবারে শেষে ছিলেন তিনি। তবে এবার শুরু থেকেই সম্পূর্ণ অন্য মেজাজ ধরা পড়েছে তাঁর খেলায়। প্রথম দিন আমেরিকার লেনিয়ের ডমিঙ্গেজ পেরেজের সঙ্গে ড্র করার পরেই গিয়ার বদল করেন প্রজ্ঞানন্দ। দ্বিতীয় গেমে আর্মেনীয়-মার্কিন দাবাড়ু লেভন অ্যারোনিয়ানকে হারিয়ে দারুণ ছন্দে ফেরেন তিনি।

তবে প্রথম দিনের সেরা চমক ছিল বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে দু’নম্বরে থাকা ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারানো। কালো ঘুঁটি নিয়ে দারুণ দক্ষতায় কারুয়ানার জমাট ডিফেন্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন তিনি। সিন্দারভ এবং ওয়েসলি সো-র চেয়ে পুরো এক পয়েন্ট এগিয়ে প্রথম দিনের শেষে একক শীর্ষস্থান দখল করেন প্রজ্ঞানন্দ। দ্বিতীয় দিনের শেষে রেটিংয়েও আসে বড় লাফ; কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ২৭১৪.৫ রেটিং ছুঁয়ে প্রথমবার র‍্যাপিডে বিশ্বের প্রথম দশে ঢুকে পড়েন তিনি।

আগ্রাসী মেজাজ ও ডাচ কাঁটা
দ্বিতীয় দিন ১৫টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতেই কোনো ফলাফল না এলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজের সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগান। হাইভোল্টেজ চতুর্থ রাউন্ডে সিন্দারভের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হন তিনি। তবে পরের রাউন্ডেই আওন্ডার লিয়াংয়ের বিরুদ্ধে ক্যারো-কান ডিফেন্সে মাত্র ৩২ চালে মার্কিন প্রতিযোগীকে ঘায়েল করেন।

টুর্নামেন্টের নবম তথা শেষ রাউন্ডে ডাচ গ্র্যান্ডমাস্টার জর্ডেন ভ্যান ফরেস্টের কাছে একমাত্র পরাজয়ের মুখোমুখি হন প্রজ্ঞানন্দ। তবে তার আগেই নিজের জমি শক্ত করে ফেলেছিলেন তিনি। অনীশ গিরি ও ওয়েসলি সো-র সঙ্গে ড্র এবং জার্মানির ভিনসেন্ট কিমারকে হারিয়ে নিজের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রাখেন। সব মিলিয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তাঁর ঠিক পিছনেই রয়েছেন উজবেকিস্তানের জাভোখির সিন্দারভ।

ব্লিটজ রাউন্ড ও ফাইনালের হাতছানি
র‍্যাপিডে দাপট দেখালেও লড়াই এখনও শেষ হয়নি। সামনে রয়েছে ১৮টি ব্লিটজ রাউন্ড। আগামী দু’দিন ধরে চলা এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রতিটি জয়ের মূল্য এক পয়েন্ট। ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলা সিন্দারভের সঙ্গে মূল লড়াই এখন গ্র্যান্ড চেস ট্যুর লিডারবোর্ডের চতুর্থ স্থানটি দখল করার। কারুয়ানা, ভিনসেন্ট কিমার ও ওয়েসলি সো ইতিমধ্যেই প্রথম তিনে এগিয়ে থাকায় চতুর্থ স্থানের জন্য লড়াই জমজমাট।

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে প্রজ্ঞানন্দের সামনে। এরপরেই রয়েছে ২০২৬ সিঙ্কফিল্ড কাপ, যেখানেও সকলের নজর থাকবে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে। তবে আপাতত সেন্ট লুইসের ব্লিটজ পর্বের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তামাম দাবাপ্রেমী জগৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *