বিচার ব্যবস্থার সম্মিলিত ব্যর্থতা! ৩১৫৭ দিনের বিলম্ব খারিজ করে ওড়িশা হাইকোর্টকে চরম ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে কীভাবে একজন মানুষের জীবনের অমূল্য সময় নষ্ট হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত সামনে এল। প্রায় ২২ বছর ধরে কারাবাস করার পর অবশেষে এক হত্যা মামলার আসামিকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছে যে, এই ঘটনাটি সামগ্রিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি সম্মিলিত ও লজ্জাজনক ব্যর্থতা।
কী জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট? বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ উড়িষ্যা হাইকোর্টের আগের একটি নির্দেশ খারিজ করে এই রায় দিয়েছে। তিন মহিলাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডিত ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যে ১২ বছর জেল খেটে যাওয়ার পর হাইকোর্টে ‘জেল আপিল’ করার জন্য ৩,১৫৭ দিন বা প্রায় সাড়ে আট বছর বিলম্ব মকুব করার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওড়িশা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ট্রায়াল কোর্ট বা বিচারিক আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং হাইকোর্টও এক্ষেত্রে কেবল একজন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে কোনো ठोस প্রমাণ ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে এবং হেফাজতে থাকাকালীন তৃতীয় ডিগ্রি পুলিশি নির্যাতনের মুখে পড়ে ওই ব্যক্তিকে বছরের পর বছর জেলের ঘানি টানতে হয়েছে।
খালাস ও পুনর্বাসনের নির্দেশ: সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যে সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত দুর্বল ও সন্দেহজনক ছিল। দীর্ঘ ২২ বছর কারাবাসের পর তাঁর সাজা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, এই দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বিনা অপরাধে জেল খাটার কারণে ওড়িশার কোরাপুট জেলার জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে (DLSA) অবিলম্বে ওই ব্যক্তির পুনর্বাসন বা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলা কালেক্টরের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনকে এই কাজে সর্বাত্মক সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।