সুখী দম্পতিদের মধ্যেও কেন পরকীয়ার প্রবণতা বাড়ে? চমকে দেবে এই সত্যিগুলো

পরকীয়া নিয়ে সমাজে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলতেই থাকে। অনেকেই এটিকে নিছক মুহূর্তের আবেগ বা ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করলেও, মনোবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, পরকীয়া একদিনে গড়ে ওঠে না; বরং দীর্ঘদিনের মানসিক দূরত্ব, যোগাযোগের অভাব এবং অপূর্ণ প্রত্যাশার ফলেই মানুষ এই পথ বেছে নেয়।
সম্পর্কে ভাঙন ধরার অনেক আগেই কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সময়মতো সেই লক্ষণগুলো ধরতে পারলে অনেক সম্পর্কই বাঁচানো সম্ভব।
কেন সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়?
যোগাযোগের অভাব: খোলামেলা কথোপকথন ও অনুভূতি ভাগাভাগি কমে গেলে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে অন্য কারও প্রতি আবেগের সংযোগ তৈরি করতে পারে।
মানসিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা: ভালোবাসা, সম্মান, প্রশংসা এবং গুরুত্ব পাওয়ার তীব্র প্রয়োজন দীর্ঘদিন অবহেলিত হলে মানুষ অনেক সময় মানসিক নির্ভরতার খোঁজ করেন অন্য কোথাও।
জমে থাকা অভিমান: ছোট ছোট অভিমান বা অমীমাংসিত ক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্পর্কের উষ্ণতা ও ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
সুখী দম্পতির ক্ষেত্রেও ঝুঁকি: বাইরে থেকে সম্পর্ক নিখুঁত বা সুখী মনে হলেও নতুন অভিজ্ঞতার আকর্ষণ, একঘেয়েমি বা ব্যক্তিগত মানসিক সংকটের কারণেও অনেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
গোপন বন্ধুত্ব: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি নিরীহ বন্ধুত্ব থেকেই ধীরে ধীরে আবেগীয় নির্ভরতা ও জটিল সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটে।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে করণীয়:
মানসম্মত সময় কাটানো: ব্যস্ততার ফাঁকেও সঙ্গীর সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানো সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখে।
সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে সমাধান করা: মতবিরোধ বা দূরত্ব তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা: পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং সততা যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সন্দেহ বা গোপনীয়তা সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।
পরকীয়ার প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট আলাদা। তাই একপাক্ষিক দোষ না দিয়ে, সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার কাজ।