মহারাষ্ট্রে চরম স্বাস্থ্য সংকট! অ্যালোপ্যাথি বনাম হোমিওপ্যাথি লড়াইয়ে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ডাক্তার ধর্মঘট

মহারাষ্ট্রে আধুনিক চিকিৎসা (অ্যালোপ্যাথি) এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের আইনি ও পেশাগত বিরোধ এবার এক চরম বিস্ফোরণক মোড় নিল। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে মহারাষ্ট্র মেডিকেল কাউন্সিল (MMC)-এর তরফে ‘সার্টিফিকেট কোর্স ইন মডার্ন ফার্মাকোলজি’ (CCMP) সম্পন্নকারী যোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের (BHMS) নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট আইনি বিধানের আওতায় থেকে এবার থেকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখতে পারবেন। আর এই সিদ্ধান্তঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আইএমএ (IMA) এবং মার্ড (MARD)। প্রতিবাদের জেরে আজ, ৫ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস (MARD)।
কেন এই তীব্র বিরোধ?
মহারাষ্ট্র মেডিকেল কাউন্সিলের এই বিজ্ঞপ্তির পেছনে রয়েছে ২০১৪ সালের একটি আইনি সংশোধনীর প্রেক্ষাপট, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের সীমিত পরিসরে আধুনিক চিকিৎসার অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে আদালতের অন্দরে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে ময়দানে নেমেছে IMA, MARD, FAIMA এবং ASMI-এর মতো প্রধান অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের সংগঠনগুলি। তাদের স্পষ্ট যুক্তি:
অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ: মাত্র এক বছরের CCMP কোর্স সম্পূর্ণ করে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল ও ব্যাপক ক্ষেত্র সামলানো যায় না।
রোগীর নিরাপত্তা ও বিভ্রান্তি: এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল মানদণ্ড ও রোগীর সুরক্ষা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হতে পারে।
আইনি প্রশ্ন: আদালতের বিচারাধীন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে এই ধরনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলি।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় ধর্মঘটের ধাক্কা
MARD-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আন্দোলনের প্রথম ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও ক্যাজুয়ালটি পরিষেবা চালু রাখা হলেও ওপিডি (OPD), রুটিন ওয়ার্ড ডিউটি, ইলেক্টিভ সার্জারি এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি না পাল্টালে আগামীকাল, ৬ আগস্ট থেকে জরুরি পরিষেবাও পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মুম্বাইয়ের কেইএম, সায়ন, নায়ার, জে.জে. হাসপাতালের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি মেডিকেল কলেজের রেসিডেন্ট ডাক্তাররা এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।
সরকার ও সমর্থক মহলের যুক্তি
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা হোমিওপ্যাথিক সংগঠনগুলির দাবি, ২০১৪ সালের আইন অনুযায়ী এই অধিকার অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল। হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ডাক্তার বছরের পর বছর ধরে MMC নিবন্ধীকরণের অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের মতে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ এবং দূরবর্তী অঞ্চলে যেখানে ডাক্তার ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর ব্যাপক অভাব রয়েছে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত প্রান্তিক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা নেবে।
সমাধান কোন পথে?
পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটিই প্রশ্ন—মাত্র এক বছরের প্রশিক্ষণ কি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার যোগ্য করে তুলতে পারে? একদিকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের সাফ কথা যে এমবিবিএস (MBBS)-এর মতো দীর্ঘ ও ব্যাপক পড়াশোনা ছাড়া অ্যালোপ্যাথি চালানো অসম্ভব, অন্যদিকে প্রশিক্ষিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দাবি তাঁরা আইনি পথেই এই অধিকার পেয়েছেন।
বর্তমানে রাজ্য সরকার এবং চিকিৎসক সংগঠনগুলির এই অনড় অবস্থানে মহারাষ্ট্রের চিকিৎসা পরিষেবা এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যের।