“ছিঁড়বে না, গলবেও না!”-ভারতে কবে থেকে চালু হচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট?

বর্তমানে ১০ ও ২০ টাকার কাগজের নোটগুলির অবস্থা যে অত্যন্ত খারাপ এবং তা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তা কমবেশি সকলেরই জানা। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির কথা এবার পৌঁছে গিয়েছে প্রশাসনের একেবারে শীর্ষ স্তরেও। আর সেই কারণেই প্রচলিত কাগজের নোটের পাশাপাশি এবার দেশে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট (Polymer Currency Notes) চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারও এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা অনুমোদন দিয়েছে। এই বিরাট সিদ্ধান্তের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে— ঠিক কবে থেকে দেশবাসীর হাতে পৌঁছবে এই প্লাস্টিকের নোট? সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।

ভারতে কবে চালু হবে প্লাস্টিকের নোট?

এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা দাবি করেছেন যে, ২০২৮ অর্থবর্ষের শুরুর দিকে পলিমার কারেন্সি নোট বাজারে নিয়ে আসার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, হিসাব অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস নাগাদ ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালু হয়ে যেতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কোন কোন নোট দিয়ে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা?

সংসদে মোদী সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরবিআই-এর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অনুমোদিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের বাজারে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোটে মোট ১০০ কোটি পলিমার নোট ছেড়ে এই প্রকল্পের পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষা চালানো হবে। এই প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবে আরও বেশি পরিমাণে প্লাস্টিকের নোট বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান কাগজের নোটগুলির কী হবে?

নতুন করে প্লাস্টিকের নোট আসার খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে যে, বর্তমানে প্রচলিত কাগজের ১০ ও ২০ টাকার নোটগুলি কি তবে পাকাপাকিভাবে তুলে নেওয়া হবে?

এই বিষয়ে সরকার ও আরবিআই-এর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পলিমার নোট আসার ফলে প্রচলিত কাগজের নোটগুলির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এর সহজ অর্থ হলো, কাগজের নোট একবারে বন্ধ হচ্ছে না; বরং পলিমার নোটের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে কাগজের নোটও বাজারে চালু থাকবে। আপাতত পুরো কাগজের ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে পলিমার নোট দিয়ে বদলে ফেলার কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই।

কেন আনা হচ্ছে প্লাস্টিকের নোট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের কাগজের নোটগুলি অত্যন্ত কম টেকসই হওয়ায় খুব দ্রুত ঘষে যায়, ময়লা হয় বা ছিঁড়ে যায়। ফলে বাজারে লেনদেনের সময় ছেঁড়া নোট নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রায়শই নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অন্যদিকে, প্লাস্টিক বা পলিমার দিয়ে তৈরি নোটগুলি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এগুলি সহজে ছোঁড়ে না, জলে ভিজে গলে যায় না এবং অনেক বেশি দিন টিকসই থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্লাস্টিক নোট চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছিল, যা এখন বাস্তবায়নের পথে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *