H-1B ও L-1 ভিসায় ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আঘাত! বাড়ল খরচ, চরম বিপাকে ভারতীয় টেক প্রফেশনালরা

মার্কিন মুলুকে কাজের সুযোগ আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার H-1B এবং L-1 ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বা নবায়নের (Renewal) ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সারচার্জ বা ফি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কর্মী ধরে রাখার খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে দেশটিতে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের ওপর।
ঠিক কী পরিবর্তন আসছে?
বর্তমানে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়োগকর্তাকে নতুন H-1B বা L-1 ভিসা আবেদন করার সময় কিংবা চাকরি পরিবর্তন করার সময় অতিরিক্ত ‘9/11 রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’ (9/11 Response and Biometric Entry-Exit Fee) প্রদান করতে হয়।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) এই নিয়ম সংশোধন ও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পাবলিক ল ১১৪-১১৩ বাস্তবায়নের জন্য এখন থেকে এই ফি শুধু নতুন আবেদনেই নয়, বরং সমস্ত H-1B এবং L-1 ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা এক্সটেনশন আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তাদের বর্তমান ভিসা ধারী কর্মীদের মেয়াদ বাড়াতে গেলেই এই অতিরিক্ত ফি দিতে বাধ্য থাকবে।
কাদের ওপর পড়বে এই প্রভাব?
এই প্রস্তাবিত নিয়মটির মূল লক্ষ্য হলো সেইসব মার্কিন নিয়োগকর্তারা, যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে এবং যাদের কর্মীবাহিনীর অর্ধেকের বেশি H-1B বা L-1 ভিসার ওপর নির্ভরশীল।
এই ধরনের কোম্পানিগুলোকে বর্তমানে H-1B ভিসার আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ৪,০০০ ডলার এবং L-1 ভিসার জন্য অতিরিক্ত ৪,৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। এখন এই সারচার্জটি ভিসা নবায়ন বা এক্সটেনশন আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত হলে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের (যাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ) সংস্থায় ধরে রাখার খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে H-1B ভিসা ধারীদের সিংহভাগই ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁরা মার্কিন টেকনোলজির মূল চালিকাশক্তি।
যদিও এই অতিরিক্ত ফি সরাসরি কর্মীরা নয়, বরং নিয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রদান করবে; তবুও খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়োগ এবং কর্মী ধরে রাখার নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বড় আইটি সার্ভিস ফার্মগুলো, যারা H-1B এবং L-1 কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা বেশ চাপের মুখে পড়বে। কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা প্রোগ্রামের ওপর নজরদারি কড়াকড়ি করার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এল।