ব্রাজিল-আমেরিকা কূটনৈতিক যুদ্ধ তুঙ্গে! ওয়াশিংটনের কড়া পদক্ষেপে বাতিল ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের ভিসা

ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়া: আমেরিকা ও ব্রাজিলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেমে এল এক নজিরবিহীন শীতলতা। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তির (Maria Luiza Ribeiro Viotti) ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই এই বড় পদক্ষেপ নিল হোয়াইট হাউস।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মাসে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে দুই মার্কিন কূটনীতিকের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ব্রাসিলিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত তথা ফ্লোরিডার সাবেক হাউস স্পিকার ড্যানি পেরেজের (Danny Perez) অনুমোদন ঝুটিয়ে রেখেছে ব্রাজিল সরকার।

কী বলছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর?
স্টেট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ বেশ কয়েকবার পেছানো হয়েছিল। তবে আমেরিকা জানিয়েছে, ব্রাজিল যদি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে মেনে নেয়, তবে এই ভিসা বাতিলের নির্দেশ তুলে নেওয়া হতে পারে। যদিও ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তবুও রাষ্ট্রদূত ভিওট্টিকে তাৎক্ষণিকভাবে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না।

কেন এই বিরোধের সূত্রপাত?
এই চরম কূটনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়, যখন ব্রাজিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রিলে বার্নস এবং তাঁর এক শীর্ষ সহযোগীকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গুঞ্জন ছিল, ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা ব্রাজিল সফরে এসে প্রেসিডেন্ট লুলা কিংবা দেশটির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করতে পারেন।

অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দাবি করেছে, ওই সফরটি সম্পূর্ণ রুটিনমাফিক ছিল। ‘নির্বাচনী স্বচ্ছতা’, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতেই তাঁরা যেতে চেয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের সাফ কথা, গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ডাহা মিথ্যা।

নির্বাচনের দোরগোড়ায় উত্তপ্ত রাজনীতি
ব্রাজিলের আসন্ন অক্টোবর মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। উল্লেখ্য, ফ্লাভিও হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর পুত্র, যিনি বর্তমানে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে ২৭ বছরের গৃহবন্দী সাজা ভোগ করছেন।

নীতিগত পার্থক্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোলসোনারো পরিবারকে প্রকাশ্য সমর্থনের ফলেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এই বাণিজ্য সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লুলার শিবিরের দাবি, এসব পদক্ষেপ সরাসরি সিনেটর বোলসোনারোর পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *