বাংলাদেশের মন্দিরে সমকামী বিয়ে ঘিরে তুমুল বিতর্ক! কড়া ব্যবস্থার দাবিতে সরব ১,২৩০ জন

বাংলাদেশের একটি মন্দিরে সমকামী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে বেশ কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই দেশের মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের ধর্মগুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, যাঁরা সমকামিতার প্রচার করছেন, তাঁরা মূলত শয়তানের অনুসারী। পাশাপাশি, বাংলাদেশে পশ্চিমী সংস্কৃতির ‘নোংরামি’ আমদানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এই সমকামী বিয়ের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং কড়া শাস্তির দাবি তুলে ১,২৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি ও যৌথ বিবৃতি
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ১,২৩০ জনের স্বাক্ষর করা যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী এবং পড়ুয়াসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
আইনি পদক্ষেপ: বাংলাদেশের আইনে রূপান্তরকামীদের স্বতন্ত্র স্বীকৃতি নেই এবং দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত দাবি: ওই বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্বে এমন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বা বিজ্ঞানসম্মত উপায় নেই যার মাধ্যমে কোনো পুরুষ বা মহিলাকে অস্ত্রোপচার বা অন্য উপায়ে পূর্ণাঙ্গ বিপরীত লিঙ্গে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
অশান্তির হুঁশিয়ারি ও ধর্মীয় ক্ষোভ
বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশই মুসলিম এবং তাঁরা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রকাশ্যে যেভাবে সমকামী বিয়ের ঘটনা ঘটেছে, তাতে সরকার যদি দ্রুত কড়া পদক্ষেপ না করে, তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে। ‘শান্তিপ্রিয়’ সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারেন বলেও ঘুরিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য সামনে এসেছে। ঢাকার এক ধর্মগুরু ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এক মুসলিম যুবক রূপান্তরকামী হয়ে এক হিন্দু যুবককে বিয়ে করেছেন অথচ সরকার নীরব রয়েছে। মসজিদে কোনো ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কাজ হলে যে প্রতিক্রিয়া হতো, তার সঙ্গে তুলনা টেনে ওই ধর্মগুরু তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।