রাজনৈতিক দল নয়, নাকি অন্য কিছু? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বড় ঘোষণা করল সিজেপি!

প্রথাগত রাজনীতির গতানুগতিক গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এবার নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগের সুরাহা করতে হলে প্রথাগত কোনো রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির চেয়ে বরং তৃণমূল স্তরে সামাজিক জাগরণ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে সমাজের নিচুতলা থেকে সচেতনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরই জোর দিচ্ছে এই নতুন সংগঠন।
সংগঠনের মূল দর্শন ও আগামী দিনের পরিকল্পনা
তৃণমূল স্তরে জাগরণ: সিজেপি নেতৃত্বের মতে, দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু মানুষের আসল যন্ত্রণার প্রকৃত সমাধান করতে হলে তৃণমূল স্তরে জাগরণ সৃষ্টি করা দরকার। সিজেপি ঠিক সেই কাজটিই করে চলেছে।
আগামী পদক্ষেপ: প্রতিবাদ সফল হওয়ার পর এই আন্দোলন কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে একত্রিত হয়েছেন সংগঠনের নেতারা। কীভাবে এই আন্দোলনকে দেশের প্রতিটি তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। ৬ আগস্ট সমস্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক দল গড়ার পরিকল্পনা নেই: সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে এই সংগঠনটিকে একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব তাঁদের নেই।
রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও সরকারের বিরুদ্ধে তোপ
সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের দমনমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
নেত্রী বৈষ্ণবীর মন্তব্য: সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি ও আরএসএস যে ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ করেছে, তাতে কোনো প্রকৃত আলোচনার প্রতিফলন দেখা যায়নি; বরং তা ছিল নাগরিকদের ওপর একতরফা নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার মতো প্রয়াস। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার জোর খাটিয়ে নির্দেশ না দিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করবে এবং ছোটদের কোনোভাবেই হেনস্থা বা ভয় দেখানো হবে না। অন্যথায় তাঁদের যুব আন্দোলন আরও তীব্রভাবে চলবে।
রত্না সিংয়ের হুঁশিয়ারি: বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের কঠোর দমন-পীড়ন ও বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিজেপি নেত্রী রত্না সিং। বিশেষ করে বিহারে ছোটদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে একে-৪৭ (AK-47) ব্যবহারের মতো চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করছে। আসন্ন নির্বাচনগুলির ফলাফলই প্রমাণ করে দেবে যে ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিণাম কী হতে পারে।
‘জেন-জি’ ও আরএসএস প্রসঙ্গ
তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেন-জি’ (Gen Z)-র সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে এটিকে একটি ভালো সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের প্রবল আন্দোলনের ফলেই প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারা আজ বাধ্য হয়েছেন তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কথা ভাবতে।
তবে প্রবীণ নেতাদের পরিবর্তে নতুন, তরুণ এবং শিক্ষিত মুখগুলোকে সামনে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, কারণ বয়স্ক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ‘জেন-জি’-র মানসিক সংযোগ স্থাপন করা বেশ কঠিন। উল্লেখ্য, এর আগে আরএসএস নেতা অতুল লিমায়ে সিজেপি-র বিক্ষোভের নেপথ্যে বিদেশি বা কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির ‘অনুপ্রবেশ’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও, সিজেপি নেতৃত্ব তা সম্পূর্ণ খারিজ করে নিজেদের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও জনমুখী বলেই দাবি করেছে।