কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটছে সারের কালোবাজারিরা? সকালেই বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের!

বেশ কিছুদিন ধরেই কৃষকদের তরফে তীব্র অভিযোগ উঠছিল। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এবার কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। বুধবার সাতসকালে ঝাড়গ্রাম শহরের একাধিক সারের দোকানে আচমকা হানা দিল জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের একটি প্রতিনিধি দল।
সূত্রের খবর, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নির্ধারিত দামের থেকে অনেক বেশি দামে সার আদায় করা হচ্ছিল। এই অভিযোগের রেশ ধরেই এদিন সকাল সকাল অভিযানে নামেন তদন্তকারীরা।
এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা ঝাড়গ্রামের বেশ কয়েকটি সারের দোকানে গিয়ে সারের বর্তমান মজুত ভাণ্ডার (Stock) এবং ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাবের খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। অভিযান চলাকালীন আধিকারিকরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁরা প্রকৃতপক্ষেই সরকারের নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন আধিকারিকরা। বেশ কিছু দোকানে সারের দরদাম এবং সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া রেট চার্ট মিলিয়ে দেখা হয়।
এই বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোনো ব্যবসায়ী কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সাথে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আচমকা এই তল্লাশি অভিযানের জেরে এলাকায় অসাধু সার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় জেলাজুড়ে এই ধরনের সারপ্রাইজ ভিজিট ও তদারকি আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে জারি থাকবে।