রোগীদের খাবারে টান নয়! আদালতের মামলার জেরে সরকারি হাসপাতালের খাদ্য পরিষেবা নিয়ে বড় নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চের

আদালতের মামলার জেরে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাদ্য পরিষেবায় যাতে কোনোভাবেই ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন সরবরাহকারী সংস্থা নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো সংস্থাই হাসপাতালগুলিতে খাদ্য সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চের দেওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশের নির্দেশেও কোনো হস্তক্ষেপ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ।

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ কী?

বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে যে, নতুন সরবরাহকারী সংস্থা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পুরনো সংস্থাই নতুন নির্ধারিত মূল্যে রোগীদের খাবার সরবরাহ করবে। এই মুহূর্তে নতুন কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। আগামী ২০ আগস্ট বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। একক বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পরই রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারবে।

আদালতে কী যুক্তি দিল রাজ্য ও সরবরাহকারী পক্ষ?

শুনানি চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতের একক বেঞ্চের দেওয়া স্থগিতাদেশ খারিজ করার আবেদন জানান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশমতো গত ১০ এপ্রিল রোগীদের খাবার সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি খাবারের গুণগত মান, তালিকা এবং উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু মামলা বিচারাধীন থাকায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার আইনজীবী সপ্তাংশু বসু জানান, ২০১৭ সাল থেকে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হাসপাতালগুলিতে খাবার সরবরাহ করে আসছে। তবে পুরনো রেটে খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা নির্বাচন নিয়ে এর আগে বেশ কিছু জলঘোলা হয়েছে। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সরকারের জারি করা নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত একক বেঞ্চ টেন্ডারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছিল, যা ডিভিশন বেঞ্চের রায়েও বহাল থাকল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *