‘২০ জনই আছি, সংখ্যাটা বাড়তেও পারে!’ শুভেন্দুর সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পরই বড় বিস্ফোরক দাবি

রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা জিইয়ে রেখেই দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সঙ্গে দীর্ঘ মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রহস্যজনক মন্তব্য, “ইয়ে তো ব্যস ঝাঁকি হ্যায়, আগে দেখুন কী হয়!”—জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

এনডিএ বৈঠক ও বঙ্গভবনের লাঞ্চ মিট

এর আগে এদিনই সংসদ ভবনে এনডিএ-র সমন্বয় বৈঠকে যোগ দেন এনসিপিআই সাংসদরা। অতীতে কিছু বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও, এদিনের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সারিতেই দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।

অন্যদিকে, দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ অংশ নেন। যার মধ্যে এনসিপিআই-এর ১৯ জন সাংসদের পাশাপাশি ছিলেন রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ—সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ—আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। যদিও এই তিন সাংসদ এনডিএ-র বৈঠকে না গেলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে সামিল হন।

বৈঠকে কী বার্তা দিলেন সাংসদরা?

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে দলবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও রহস্যময় করে তোলে। তিনি বলেন, “আমরা ২০ জনই আছি। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে।” এরপর কে কে আসতে পারেন তা বুঝে নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

যদিও দলের অন্য সুর শোনা গিয়েছে সাংসদ শতাব্দী রায়ের গলায়। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈঠকে এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক ছিল। সাংসদ তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্প রূপায়ণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁরা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন বলে খবর।

এদিকে, মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা এনসিপিআইয়েই আছেন, এনডিএ বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে জানান, আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে আরও বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *