“কোনদিন মাইনে-পেনশন নিইনি! বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসাও কি এ বছর কেড়ে নেওয়া হল?”

আর্থিক পরিস্থিতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সুর শোনা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। মঙ্গলবার এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কখনও সরকারি বেতন বা পেনশন নেননি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিজের লেখা বইয়ের রয়্যালটির টাকাতেই ব্যক্তিগত খরচ চলত। কিন্তু এ বছর সেই রয়্যালটির অর্থ এখনও তাঁর হাতে পৌঁছয়নি বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক আর্থিক বিষয় ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সঙ্কটের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ?
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “আমি কোনও দিন এক পয়সা মাইনে নিইনি। আজ পর্যন্ত এক পয়সা পেনশন নিইনি। আমার বইয়ের রয়্যালটি দিয়েই আমার চলে। কিন্তু সেই রয়্যালটিটাও এ বছর আমি পাইনি। নিশ্চয়ই বিজেপির ভয়ে তারা মুখ বন্ধ করে বসে আছে। নিশ্চয়ই এতে কোনও খেলা আছে। আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সবকিছু ফ্রিজ করে দিয়েছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সরকারি বেতন বা পেনশন বর্জন করে আসছেন। তাঁর ছবি বিক্রি এবং বইয়ের রয়্যালটি থেকেই মূলত তাঁর ব্যক্তিগত আয় হয়ে থাকে। এ দিন সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে আর্থিক সঙ্কটের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরএসএসের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন মমতার
ব্যক্তিগত আর্থিক প্রসঙ্গ ছাড়াও, এ দিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর ভূমিকা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রে যেমন বিদেশি অনুদান এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হয়, তেমনই আরএসএসের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও পরিষ্কার হিসাব জনগণের সামনে আসা উচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের মন্তব্য সেই রাজনৈতিক চাপের অভিযোগকেই আরও জোরালো করেছে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা এড়িয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সাহিত্যকর্মের আয়ের ওপর নির্ভর করা সত্ত্বেও যদি সেই পথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চলে, তবে তা নিয়ে যে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়—এ দিনের লাইভে সেই বার্তাটিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।