ঋষিকেশে তৈরি ভারতের প্রথম কাঁচের ঝুলন্ত সেতু! বজরং সেতুতে গ্লাস স্কাইওয়াকের টিকিটের দাম কত?

ঋষিকেশ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আপনার জন্য রয়েছে দারুণ এক খবর! উত্তরাখণ্ডের ঐতিহাসিক লক্ষ্মণ ঝুলার ঠিক পাশেই গঙ্গার উপর তৈরি হয়েছে ভারতের প্রথম কাঁচের ঝুলন্ত সেতু ‘বজরং সেতু’ (Rishikesh Bajrang Setu)। দর্শনার্থীদের জন্য এটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে এই সেতুর ওপর রোমাঞ্চকর ‘গ্লাস স্কাইওয়াকে’ হাঁটতে হলে পকেট থেকে গুনতে হবে নির্দিষ্ট প্রবেশমূল্য। উত্তরাখণ্ড সরকার ইতিমধ্যেই এই ফি ধার্যের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকায় (SOP) অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে।
টিকিটের দাম এবং সময়সীমা
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: দুই ঘণ্টার টিকিটের দাম ১০০ টাকা।
শিশুদের জন্য: টিকিটের দাম ৫০ টাকা।
সময়সীমা: প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্কাইওয়াক খোলা থাকবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য তিনটি শিফটে মোট ৪৮ জন কর্মী দায়িত্বে থাকবেন।
তবে যাঁরা শুধু নদী পারাপার করতে চান, তাঁদের জন্য সুখবর হলো— সেতুর মাঝখানের কংক্রিটের অংশটি ২৪ ঘণ্টাই সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খোলা থাকবে।
কেন তৈরি হলো এই বজরং সেতু?
২০১৯ সালে নিরাপত্তার কারণে ঐতিহাসিক লক্ষ্মণ ঝুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই এই অঞ্চলে একটি বিকল্প ও আধুনিক সেতুর তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল। সেই ঘাটতি মেটাতেই তৈরি হয়েছে ১৩২ মিটার দীর্ঘ ও ৮ মিটার চওড়া এই বজরং সেতু। এটি ঋষিকেশের তপোবন ও পুরনো লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকার কাছে তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে সহজেই রাম ঝুলা, পরমার্থ নিকেতন আশ্রম এবং আশপাশের জনপ্রিয় ক্যাফেগুলিতে পৌঁছে যাওয়া যায়।
সেতুর প্রধান আকর্ষণগুলি
কাঁচের স্কাইওয়াক: এই সেতুর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো কাঁচের তৈরি স্কাইওয়াক। বিশেষ ধরনের বহুস্তরের টেম্পার্ড গ্লাস দিয়ে তৈরি এই পথে হাঁটলে মনে হবে যেন সরাসরি গঙ্গার জলের উপর দিয়েই হেঁটে চলেছেন।
অনন্য নকশা: সেতুর প্রধান স্তম্ভগুলি কেদারনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে।
যানবাহন চলাচল: সেতুর মাঝখানে ৫ মিটার চওড়া স্টিলের ডেকও রাখা হয়েছে, যেখান দিয়ে দু’চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
গঙ্গার মনোরম দৃশ্য, কাঁচের স্কাইওয়াকের রোমাঞ্চ এবং আধুনিক স্থাপত্যের মেলবন্ধনে ঋষিকেশের নতুন এই বজরং সেতু ইতিমধ্যেই পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।