ছেলেকে সম্পত্তি না দেওয়ায় আড়াই বছরের নাতির গলা টিপে খুন! বাবার পৈশাচিক কাণ্ডে শিউরে উঠবেন

ছেলেকে সম্পত্তি না দিয়ে আড়াই বছরের নাতির নামে তা লিখে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ। আর সেই আক্রোশেই নিজের আড়াই বছরের শিশুকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ বাবার বিরুদ্ধে। এই পৈশাচিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং সিল করা হয়েছে তাঁর বাড়ি।

ঠিক কী কারণে এই ঘটনা?
বাদুড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সরকার। তাঁর বাবার পৈতৃক সম্পত্তি থাকলেও প্রসেনজিৎ কোনো কাজকর্ম করতেন না বলে অভিযোগ। উল্টে তিনি বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে, ধারদেনা করে মদ খেতেন এবং জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন।

এর আগেও একবার প্রসেনজিতের বাবা তাঁর নামে কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রসেনজিৎ সেই সম্পত্তি বিক্রি করে মদ খেয়ে সব টাকা উড়িয়ে দেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বৃদ্ধ বাবা সিদ্ধান্ত নেন যে আর প্রসেনজিতের নামে কোনো সম্পত্তি করবেন না। পরিবর্তে তিনি তাঁর আড়াই বছরের নাতি অরিজিৎ সরকারের নামে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেন। আর এই সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ক্ষোভেই প্রসেনজিতের মনে চরম আক্রোশ জন্ম নেয়।

এর আগেও হয়েছিল খুনের চেষ্টা
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি না পাওয়ার এই রাগে এর আগেও একবার নিজের ছোট্ট সন্তানকে খুন করার চেষ্টা করেছিলেন প্রসেনজিৎ। তবে সেবার পরিবারের অন্য সদস্যদের তৎপরতার কারণে শিশুটি বেঁচে যায়। সেই সময় পুলিশ প্রসেনজিৎকে ধরে নিয়ে গেলেও, ৬ মাস জেল খেটে তিনি আবার জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন।

সোমবারের মর্মান্তিক পরিণতি
অভিযোগ, সোমবার সকালে সকলের নজর এড়িয়ে সুযোগ বুঝে প্রসেনজিৎ তাঁর ছোট্ট সন্তান অরিজিৎকে গলা টিপে খুন করেন। অরিজিতের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত বাবা। কিন্তু বাড়ির লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির সকলকে থানায় নিয়ে যায় এবং আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসেনজিৎ সরকারকে গ্রেফতার করা হয় এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে তাঁর বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়।

হতবাক প্রতিবেশীরা
নিজের কোলের সন্তানকে এভাবে খুনের এমন ঘটনায় হতবাক ও দিশেহারা প্রসেনজিতের প্রতিবেশীরা। তাঁদের বক্তব্য, নেশায় সবসময় ডুবে থাকা প্রসেনজিতের ওপর বাড়ির লোকজনও বর্ধিষ্ণুভাবে ক্ষুব্ধ ছিল, যার জন্যই দাদু তাঁর নাতির নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সামান্য সম্পত্তির লোভে নিজের রক্তমাংসের সন্তানকে এভাবে কেউ কেড়ে নিতে পারে, তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না এলাকাবাসী। বর্তমানে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *