ঘণ্টায় ১৩০ কিমি বেগে চলা ট্রেন এক মুহূর্তে কীভাবে থামে? লাল সিগন্যাল কি আচমকা জ্বলে ওঠে? জানুন অজানা তথ্য!

ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে ট্রেন। ভিতরে বসে রয়েছেন শ’য়ে শ’য়ে যাত্রী। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রয়োজনে লাল সিগন্যাল দেখে কীভাবে থেমে যায় এত ভারী একটি ট্রেন? বন্দে ভারত, রাজধানী, শতাব্দী কিংবা দূরন্ত এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগতির ট্রেনগুলির সিগন্যালিং ব্যবস্থা আসলে কীভাবে কাজ করে? চালকই বা বোঝেন কীভাবে যে কখন ট্রেন থামাতে হবে? আসুন জেনে নেওয়া যাক রেলের এই জটিল ও নিখুঁত সিগন্যালিং ব্যবস্থার অন্দরমহল।
কোন রঙের সিগন্যাল চালককে কী ইঙ্গিত দেয়?
রেলপথে চালকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানত কয়েকটি রঙের সিগন্যাল ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটির নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে:
সবুজ সিগন্যাল (Green Signal): এই সিগন্যালের অর্থ হল সামনের পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার রয়েছে এবং ট্রেন নির্বিঘ্নে তার নির্ধারিত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে।
ডাবল হলুদ সিগন্যাল (Double Yellow Signal): এই সংকেত দেখলে লোকো পাইলট বুঝে যান যে এবার ট্রেনের গতি কমাতে হবে। মূলত ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটারের বেশি গতির রুটে প্রায় ২ কিলোমিটার আগে অতিরিক্ত আগাম সতর্কতা বা ‘ডাবল ডিস্ট্যান্ট সিগন্যাল’ ব্যবহার করা হয়, যাতে ট্রেন থামাতে লোকো পাইলট পর্যাপ্ত সময় হাতে পান।
সিঙ্গেল হলুদ সিগন্যাল (Single Yellow Signal): এর মাধ্যমে ট্রেনের গতি আরও কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। লোকো পাইলট তখন ট্রেনের গতি সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
লাল বা স্টপ সিগন্যাল (Red/Stop Signal): সাধারণত ২০০ মিটার দূর থেকেই এই সিগন্যাল দেখানো শুরু হয়, যাতে লোকোপাইলট তা স্পষ্টভাবে দেখতে পান। এরপরেই লাল সিগন্যাল দেখিয়ে ট্রেন সম্পূর্ণরূপে থামানো হয়।
হঠাৎ কি লাল সিগন্যাল জ্বলে ওঠে?
অনেকের মনেই ধারণা থাকে যে লাল সিগন্যাল বোধহয় হঠাৎ করেই জ্বলে ওঠে। তবে রেলের নিয়ম অনুযায়ী, লাল সিগন্যাল কখনও আকস্মিক জ্বলে ওঠে না। ট্রেনের গতি, ওজন, লাইনের ঢাল, আবহাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট রেলের পরিচালন বিধি মাথায় রেখে লোকো পাইলট ধাপে ধাপে ব্রেক প্রয়োগ করে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন।