“৬ সাংসদ ও ৩০ বিধায়ক দল ছাড়লেও ‘দিদি’র হাত ছাড়েননি!”-বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

দলত্যাগ এবং ভাঙনের গুঞ্জনের মাঝে সোমবার অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, শাসকদল বা জোট শিবির থেকে ৬ জন সাংসদ ও ৩০ জন বিধায়ক দল ছাড়লেও তাঁরা আদতে ‘দিদি’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। অন্যদিকে, শনিবার মমতার বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিকিৎসাকেন্দ্রে শশী পাঁজার আকস্মিক উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়েছে।

কুণাল ঘোষের চাঞ্চল্যকর দাবি

সোমবার কুণাল ঘোষ দাবি করেন, প্রতিপক্ষ শিবির থেকে ৩০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং অন্তত ৬ জন সাংসদ ক্রমাগত তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কুণালের কথায়, “ওখান থেকে অন্তত ৩০ জনেরও বেশি লোক ক্রমাগত ফোন করছেন! সংখ্যাটা অনেক বড়। কেউ কেউ তো সোজাসুজি এসে দিদির সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করে গিয়েছেন। জোর করে গিয়েছেন। কিন্তু ওখানে তো ওঁদের কোনও স্বাভাবিক আকর্ষণই নেই। কেউ গিয়েছেন নিজেদের কেস সামলাতে, তো কেউ মান সামলাতে।” তবে এই বিদ্রোহী বা যোগাযোগ রাখা বিধায়ক-সাংসদরা এখনই প্রকাশ্যে আসছেন না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে কুণালের সাফাই, “এখনই এঁরা সামনে আসবেন না। কারণ, আমরা তো আর এদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে পারব না।” পাশাপাশি সাংসদদের দলবদলের আগ্রহ প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি, ওঁরা বিজেপি বা প্রতিপক্ষের বিরোধী ভোট পেয়ে জিতেছেন, ফলে দল বদলালে এলাকায় তাঁদের আর বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।

জল্পনার কেন্দ্রে শশী-কাকলির সাক্ষাৎ

কালীঘাটের বাতাসে যখন এই দলবদল ও রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিকিৎসাকেন্দ্রে হাজির হন মন্ত্রী শশী পাঁজা। কাকলির চেম্বারে শশীর এই আচমকা ‘ঝটিকা সফর’ রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি করে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি পর্দার অন্তরালে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা চিত্রনাট্য রচিত হচ্ছে?

যদিও এই জল্পনায় জল ঢেলেছেন স্বয়ং কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমার প্রথম ছাত্রী শশী পাঁজা। ১৯৮৭-৮৮ সালে আমার অধীনে ও কাজ শুরু করেছিল। তাই আমাদের মধ্যে এমনিই রোজ যোগাযোগ আর কথাবার্তা হয়। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক গল্প খোঁজা ভুল।”

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা জবাব

কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবিকে আমল দিতে নারাজ প্রতিপক্ষ শিবির। কুণালের মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অনেক কথাই শুনছি। ওঁদের নিজেদের লোকেদের ওপর একটু ভাল করে নজরদারি রাখতে বলুন।” সাংসদদের দলবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে ঋতব্রত আরও দাবি করেন, সাংসদদের ব্যাপারে তিনি দায়িত্ব নিয়ে কিছু বলতে না পারলেও দিল্লির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সুবাদে তিনি জানেন যে অন্য শিবিরের সাংসদদের সঙ্গেই তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এক এমপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ৪০ মিনিট কথাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুণালের হুঙ্কার, কাকলি-শশীর গোপন সাক্ষাতের গুঞ্জন এবং দুই নেতার বাকযুদ্ধে বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই জল্পনা শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক পরিণতি লাভ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *