৫.৫ মিটারের সিল্কের শাড়ি সেঁধল দেশলাই বাক্সে! তেলেঙ্গানার তাঁতির এই কীর্তিতে তাজ্জব বিশ্ব

একটি ৫.৫ মিটার লম্বা সিল্কের শাড়ি আলমারি বা বড় স্যুটকেসে রাখাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি বলা হয় আস্ত শাড়িটি একটি ছোট্ট দেশলাই বাক্সে ভরে ফেলা সম্ভব, তবে যে কেউ চমকে উঠবেন। আর এমনই এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য কীর্তি করে দেখিয়েছেন ভারতের তেলেঙ্গানার এক প্রতিভাবান তাঁতি।

কীভাবে সম্ভব হলো এই অসম্ভব?
তেলেঙ্গানার রাজান্না সিরসিল্লা জেলার দক্ষ তাঁতি ওয়েলডি হরিপ্রসাদ এই অনন্য ও চমকপ্রদ শাড়িটি তৈরি করেছেন। একটি হস্তচালিত তাঁতে সম্পূর্ণ একা এই ৫.৫ মিটার লম্বা এবং ৪৫ ইঞ্চি চওড়া শাড়িটি তিনি বুনেছেন মাত্র ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে!

সাধারণত একটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি তৈরি করতে যেখানে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে, সেখানে হরিপ্রসাদ এই অসাধ্য সাধন করেছেন মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায়। এই বিশ্বমানের রেকর্ড গড়ার জন্য তিনি টানা এক বছর ধরে কঠোর অনুশীলন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন।

দেশলাই বাক্সে শাড়ির জাদু
এত বড় ও নিখুঁত একটি শাড়ি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভাঁজ করে একটি সাধারণ দেশলাই বাক্সের মধ্যে পুরে ফেলা হয়। একটানা ও নিখুঁত বুননে তৈরি এই শাড়িটি বিশ্বজুড়ে তাঁতশিল্পের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শাড়ি তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ ও সহকর্মী তাঁতিরা হরিপ্রসাদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। এই সাফল্যের বিষয়ে তিনি বলেন,

“এটি ভারতীয় হস্তচালিত তাঁত ঐতিহ্য এবং তেলেঙ্গানার তাঁতিদের অতুলনীয় দক্ষতার প্রতীক। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাজান্না সিরসিল্লার তাঁতিদের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা।”

হরিপ্রসাদের এই অনন্য উদ্ভাবন শুধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে হস্তচালিত তাঁত শিল্পকে এক নতুন স্বীকৃতিই এনে দেয়নি, বরং তরুণ প্রজন্মকে এই প্রাচীন শিল্পের প্রতি নতুন করে আগ্রহী করে তুলতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *