ধর্ষণের অভিযোগ তোলায় ভরা পঞ্চায়েতে মহিলাকে মাটিতে থুতু চাটার নিদারুণ শাস্তি! লজ্জায় স্তব্ধ দেশ

বিহারের বেগুসরাই জেলা থেকে এক চরম অমানবিক ও শিহিউরনীয় ঘটনার খবর সামনে এসেছে। ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তোলায় এক মহিলাকে জনসমক্ষে চরম অপমান ও নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সালিশি সভার মাধ্যমে ওই মহিলাকে জোর করে মাটিতে থুতু চ্যাটে বাধ্য করা হয়, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জুনের হলেও গত জুলাই মাসের শেষের দিকে এর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই আসল সত্য প্রকাশ্যে আসে। গত ১ আগস্ট দায়ের করা এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, গত ২ জুন রাতে এক প্রতিবেশী ওই মহিলার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে এবং তাকে হুমকি দিয়ে নির্যাতন চালায়।
পুলিশের বদলে সালিশি সভা এবং ‘তালেবানি সাজা’
অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলেন। কিন্তু পুলিশকে খবর না দিয়ে তারা একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রাম পঞ্চায়েত বসান এবং উভয়কেই নিজেদের মতো করে তাৎক্ষণিক ‘শাস্তি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, ওই মহিলাকে ঘিরে রয়েছে একদল গ্রামবাসী। এরপর তাকে কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি জোর করে মাটিতে থুতু ফেলে তা চ্যাটে বাধ্য করা হয়। ভিডিওর পরবর্তী অংশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও একই কায়দায় কান ধরে ক্ষমা চাইতে এবং একই অপমানজনক শাস্তি ভোগ করতে দেখা যায়।
পুলিশের তদন্ত ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের দাবি
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার একদিন পর গত ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে স্থানীয় কিছু মানুষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, ওই মহিলা এবং অভিযুক্তের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং গ্রামবাসী তাদের একসঙ্গে ধরে ফেলেছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল ধর্ষণের অভিযোগ এবং পঞ্চায়েত কর্তৃক প্রকাশ্যে এই অপমান ও বর্বরতার ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।