‘আজ আমি সচেতন হিন্দু হতে চাই, আপত্তি কোথায়?’ পুরনো পার্টি-বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ক্ষুব্ধ কঙ্গনা

বলিউডের ‘কুইন’ তথা বর্তমানের বিজেপি (BJP) সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক থামছেই না। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির আন্দোলন এবং জেন জি-দের নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ট্রোলাররা তাঁর পুরোনো দিনের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের ভিডিও, সিনেমার প্রচারের ক্লিপিংস এবং পার্টি করার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে কাঠগড়ায় তুলছেন। অবশেষে এই সমস্ত কটাক্ষ ও ট্রোলের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুললেন অভিনেত্রী। স্পষ্ট ভাষায় কঙ্গনা জানালেন, নিজের মানসিকতা এবং চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।

সচেতন হিন্দু হয়ে ওঠার স্বাধীনতা রয়েছে: কঙ্গনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওতে কঙ্গনা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন সচেতন হিন্দু হয়ে ওঠার স্বাধীনতা দেশের সংবিধান তাঁকেও দিয়েছে। মানুষ যেমন যেকোনো ধর্ম বা আদর্শ বেছে নিতে পারেন, তেমনই তাঁরও নিজের পথ নিজে বেছে নেওয়ার পুরো অধিকার আছে।

অনেকেই তাঁকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কবে থেকে ‘সংঘী’ হলেন? এর জবাবে কঙ্গনা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, তিনি রাষ্ট্রীয স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এবং বিজেপির আদর্শেই অনুপ্রাণিত হতে চান। তাঁর জোরালো প্রশ্ন, সমাজ যদি অন্য সবার মতাদর্শের পরিবর্তন সহজভাবে মেনে নিতে পারে, তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হবে কেন?

অতীতের কাজের সাফাই দিতে নারাজ অভিনেত্রী
নিজের অতীতে করা কাজ বা ছবির প্রচার নিয়ে কোনও ধরনের ব্যাখ্যা দিতে যে তিনি নারাজ, তা এ দিন পরিষ্কার করে দেন কঙ্গনা। ভিডিওতে তাঁর মন্তব্য,

“আজ আমি নিজের সমর্থনে কিছু বলব না। আমি বলব না যে আমি একসময় আইটেম নম্বরের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, সমান পারিশ্রমিকের দাবি তুলেছি, বড় বড় তারকা বা স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। হ্যাঁ, আমি একসময় সাধারণ একজন হিন্দু ছিলাম। কিন্তু আজ আমি একজন সচেতন হিন্দু হতে চাই, রূপান্তরিত হতে চাই। আমি কেন তা পারব না?”

সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে তোপ
সমাজকে কাঠগড়ায় তুলে কঙ্গনা আরও বলেন, যখনই হিন্দু মেয়েদের প্রশ্ন আসে, সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষ তখন ১০-১৫ বছর পুরনো ভিডিও বা ছবি বের করে তাঁদের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নিতে শুরু করে। তারা আঙুল তুলে বলে— ‘তুমি তো আগে পার্টি করতে, এসব করতে, ওটা করতে’।

এই মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে কঙ্গনার সাফ জবাব, “ঠিক আছে, আমি আগে সবকিছুই করতাম। কিন্তু আজ আমি একজন সচেতন ও পারফেক্ট হিন্দু হতে চাই। আমার জন্য সেই রাস্তা কেন বন্ধ থাকবে? এই দ্বিমুখী আচরণ আর চলবে না।” ভিডিওর শেষে তিনি বার্তা দেন যে, হিন্দু মেয়েদেরও তাঁদের অতীতের কাজের জন্য বিচার না করে, সময়ের সঙ্গে নিজেদের চিন্তাভাবনা বদলে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *