‘টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন নাকি?’ বাড়ি বাড়ি না গিয়ে লোক ডেকে ই-কেওয়াইসি করানোর অভিযোগে তুলকাউন্ট ধমক চন্দনার

বাঁকুড়ার শালতোড়ায় আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলো। গ্রামবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা না দিয়ে, তাঁদের নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে পাঠিয়ে ই-কেওয়াইসির কাজ করানোর অভিযোগে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি। অভিযুক্ত আশাকর্মীদের প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি। আর বিধায়কের এই ধমকধমকির সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
কী ঘটেছিল ঠিক কী কারণে?
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, আশাকর্মীদের ওপর মেজাজ হারিয়ে চন্দনা বাউরি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলছেন যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আশাকর্মীদের যেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ই-কেওয়াইসি করার কথা, সেখানে সাধারণ উপভোক্তাদের কেন জোর করে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ডেকে লাইন দেওয়ানো হচ্ছে? এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বিধায়কের পরিষ্কার কথা, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই আশাকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া তাঁদেরই মূল কর্তব্য।
আশাকর্মীদের যুক্তি ও বিধায়কের কড়া জবাব
এই সময় বেশ কয়েকজন আশাকর্মী নিজেদের সাফাই দিতে গিয়ে জানান যে, তাঁরা প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা বোধ করায় পরিবারের অন্য সদস্যদের (যেমন স্বামীদের) সাহায্য নিচ্ছেন। এই যুক্তি শোনার পরেই আরও চটে যান বিধায়ক। ধমকের সুরে চন্দনা বাউরি প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন? নিজের দায়িত্বটুকু নিজে পালন করতে না পারলে সাধারণ মানুষকে কেন এভাবে ভোগান্তির মুখে ফেলছেন?”
বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিধায়ক
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক চন্দনা বাউরি আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি:
অনেক জায়গায় আশা কর্মীরা নিজেরা ই-কেওয়াইসির কাজ না করে নিজেদের স্বামীদের দিয়ে সেই কাজ করাচ্ছেন, এবং ক্ষেত্রবিশেষে স্বামীদের ঔদ্ধত্য ও দাদাগিরি মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, কাজ নিয়ে কথা বলতে গেলে সাধারণ উপভোক্তাদের মারধরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বর্তমানে আমন ধান রোয়ার মরশুম চলছে, ফলে গরিব খেতমজুররা মাঠে ব্যস্ত রয়েছেন। এই সময়ে ই-কেওয়াইসির নামে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেকে পাঠিয়ে অমূল্য কর্মদিবস নষ্ট করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
সরকারি প্রকল্পের কাজকে ঘিরে জনপ্রতিনিধির এহেন কড়া অবস্থান ও আশাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এখন পুরো শালতোড়া জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা শুরু হয়েছে।