ডিএ জট কাটছে না! নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও কেন টাকা পাচ্ছেন না পুরসভা ও শিক্ষক-কর্মচারীরা? তুঙ্গে ক্ষোভ

দিন যত এগোচ্ছে, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা ও ক্ষোভ ততই তীব্র আকার ধারণ করছে। একদিকে পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া রাজ্য সরকার শুরু করে দিলেও, অন্যদিকে বড়সড় অভিযোগ উঠেছে যে— এখনও ২০০৯ সালের রোপা (ROPA) মেনে গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) এবং কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি (KMC) এলাকার বহু কর্মী ও পেনশনভোগী বকেয়া ডিএ-র কোনো কানাকড়িও পাননি। আর এই বঞ্চনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
কনফেডারেশনের তীব্র তোপ ও মলয় মুখোপাধ্যায়ের বার্তা
বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের এই লাগাতার ক্ষোভের মাঝেই রাজ্য সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে গ্রান্ট-ইন-এইড ও কেএমসি এলাকার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছেন।
ভিডিওবার্তায় মলয়বাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের যে ডিএ, তা রোপাতেই পরিষ্কার বলা আছে। আমরা বারবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি। বারবার অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি (ফিনান্স)-কে চিঠি দিচ্ছি। এমনকি গত ১ জুন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানেও এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে। আজ সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কর্মচারীদের ক্ষোভ উপচে পড়ছে।”
সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতার জোরালো দাবি, গ্রান্ট-ইন-এইড ও কেএমসি এলাকার কর্মচারীদের সংখ্যাটা বেশ ভালোই। এর মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার তাঁদের সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে রাখছে বলে অভিযোগ তাঁর।
প্রশ্ন উঠছে কলকাতার অবসরপ্রাপ্তদের অধিকার নিয়েও
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা অর্ডার বেরোনোর পরও কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারী বা কর্মরত বহু কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা তাঁদের পাওনা বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ। গ্রান্ট-ইন-এইড ও কেএমসি এলাকার এই সমস্ত বঞ্চিত কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন— যখন বাকিরা টাকা পাচ্ছেন, তখন তাঁদের বকেয়া মেটাতে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন? এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী।