‘বিজেপির গর্ব ভাঙবে!’ বাঁকিপুরে প্রথম নির্বাচনী লড়াতেই বাজিমাত প্রশান্ত কিশোরের, প্রাথমিক ফলে বড় ব্যবধান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে পা রেখেই প্রথমবার বড়সড় চমক দিতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। সোমবার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনার শুরুতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে বড় ধরনের লিড নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন ‘জন সুরাজ পার্টি’ (Jan Suraaj Party)-র প্রতিষ্ঠাতা। চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার চেয়ে ১ হাজার ১৪৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন পিকে।
কে কত ভোট পেলেন? প্রাথমিক পরিসংখ্যান
সোমবার সকাল আটটা থেকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া পাটনার এএন কলেজে (AN College) এই হাই-প্রোফাইল উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়। ২৬ জন প্রার্থীর এই ভাগ্যপরীক্ষায় মোট ৩১ রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চতুর্থ রাউন্ডের শেষে ফল:
প্রশান্ত কিশোর (জন সুরাজ): ৬,২৬৯ ভোট (প্রথম স্থানে)
নীরজ কুমার সিনহা (বিজেপি): ৫,১২৪ ভোট (দ্বিতীয় স্থানে)
রেখা কুমারি (আরজেডি): ৮৮৪ ভোট (তৃতীয় স্থানে)
১৯৯৫ সাল থেকে (তৎকালীন পাটনা পশ্চিম আসন-সহ) বাঁকিপুর আসনটি একটানা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বা কব্জায় রয়েছে। গত এপ্রিলে নীতীন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি খালি হলে উপনির্বাচনের ঘোষণা করা হয়। বিজেপি এই আসনে তরুণ মুখ নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করলেও, গত ৩০ জুলাই মাত্র ৩৪.৩০ শতাংশ কম ভোটারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে পিকের দলের প্রাথমিক উত্থান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
গণনার আগেই পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পিকে-র
ভোটগণনা শুরুর ঠিক আগের রাতেই পাটনা পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মারাত্মক অভিযোগ তোলেন প্রশান্ত কিশোর। রবিবার গভীর রাতে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, তাঁর দলের কর্মীদের সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দল যে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
পাটনার সিনিয়র পুলিশ সুপারের (SSP) একটি নোটিশের কাগজ দেখিয়ে পিকে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারে সাহায্য করতে বাইরে থেকে আসা সমর্থকদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অজুহাতে অন্যায়ভাবে আটক করেছে প্রশাসন। এমনকি, পুলিশি হেনস্থার শিকার হওয়া সেই আটক ব্যক্তিদের তিনি মিডিয়ার সামনেও হাজির করেন। ভোটের ফলাফলের ব্যাপারে প্রথম থেকেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী জন সুরাজ প্রধান হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, এই উপনির্বাচনে বিজেপি এমন লজ্জাজনক হারের মুখোমুখি হবে, যেখানে এতদিন ধরে চলা তাঁদের এই অহংকার গুঁড়িয়ে যাবে যে— বিজেপি প্রতীক দাঁড়ালেও জিতে যায়।