বারুইপুর কাণ্ডের ছায়া মধ্যপ্রদেশে! শৌচকর্ম করতে গিয়ে নিখোঁজ ১৪ বছরের নাবালিকা, উদ্ধার অর্ধনগ্ন দেহ

গত জুলাই মাসে বাংলার বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, ঠিক সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে গেল মধ্যপ্রদেশের সাতনায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরবেলা শৌচকর্ম করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এক ১৪ বছরের কিশোরী, আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের সাতনায়?
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলার কোটা থানার অন্তর্গত এলাকার বাসিন্দা ওই ১৪ বছরের কিশোরী গত রবিবার ভোর ৫টা নাগাদ শৌচকর্মের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার: পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দেখেন, আবের-লাখানওয়াহ সড়কের পাশের ঝোপের মধ্যে পড়ে রয়েছে মেয়েটির নিথর ও অর্ধনগ্ন দেহ।

গ্রামজুড়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ: এই মর্মান্তিক খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে—এই অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে কোটার-সেমারিয়া সড়ক।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডগ স্কোয়াডসহ বিশেষ তদন্তকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কয়েক ঘণ্টা প্রতিবাদের পর নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের বয়ান ও তদন্তের আপডেট
কোটার এএসপি (গ্রামীণ) প্রেমলাল কুরভে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মেয়েটিকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় এবং ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত তার গলা কেটে খুন করে। এই ঘটনায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

যাতে এলাকায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মেয়েটির মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কোটা থানা পুলিশ সম্পূর্ণ এলাকা সিল করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বারুইপুর কাণ্ডের স্মৃতি
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও দাউদাউ আগুন জ্বলে উঠেছিল বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। সেই সময়ও ব্যাপক বিক্ষোভ, পথ অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রভাস মণ্ডল সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। পরে পুলিশের এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্ত প্রভাসের মৃত্যুর ঘটনাও রাজ্য রাজনীতিতে কম শোরগোল ফেলেনি। এবার মধ্যপ্রদেশের সাতনার এই নৃশংস ঘটনা যেন সেই পুরোনো আতঙ্ক আর ক্ষোভের স্মৃতিকেই ফের উসকে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *