প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্টের চিন্তা শেষ! খারিফ ২০২৬ মরসুমের বিমা করানোর দারুণ সুযোগ, বড় ঘোষণা সরকারের

দেশের অন্নদাতাদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY)-এর অধীনে খারিফ ২০২৬ মরসুমের জন্য ফসল বিমার আবেদনের শেষ তারিখ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব কৃষক বন্ধুরা এখনও পর্যন্ত নানা অনিবার্য কারণে নিজেদের ফসলের বিমা করাতে পারেননি, তাঁরা এখন আগামী ১৬ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সরকারের এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে দেশের কোটি কোটি কৃষক উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম?

কেন্দ্রীয় সরকারের এই জনমুখী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো—অবাঞ্ছিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের লোকসানের সঠিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এর ফলে কৃষকদের চাষবাসের খরচ বজায় থাকে এবং কৃষিকাজ কোনোভাবেই ব্যাহত হয় না। এই প্রকল্পের আওতায় শুধু যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কৃষকরাই আসেন তা নয়, বরং ঋণমুক্ত সাধারণ কৃষক এবং খেতমজুর বা বর্গাচাষীরাও সমানভাবে এই বিমার সুবিধা পেতে পারেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই যেন সমস্ত কৃষকরা তাঁদের ফসল বিমা করিয়ে নেন।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এটি শুধুমাত্র উৎপাদিত ফসলের ক্ষতিই কভার করে না, বরং—

  • প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি সঠিক সময়ে বীজ বপন করা সম্ভব না হয়।

  • বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসল নষ্ট হলে।

  • ফসল কাটার পরেও যদি প্রাকৃতিক কারণে ফসলের ক্ষতি হয়।

এই সমস্ত ক্ষেত্রেই কৃষকদের উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কৃষকদের সামগ্রিক আয় সুরক্ষিত রাখা এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ঝুঁকি সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনাটাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।

কীভাবে আবেদন করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তারিখ

আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে জানানো হয়েছে যে, কৃষকরা ১৬ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত ন্যাশনাল ক্রপ ইন্স্যুরেন্স পোর্টাল, তাঁদের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা, সমবায় সমিতি, কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) বা অনুমোদিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব সহজেই এই শস্য বিমা সম্পন্ন করতে পারবেন।

  • এগ্রিস্ট্যাক আইডি: যেসব কৃষকের কোনো ব্যাংক লোন বা ঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে একটি ‘এগ্রিস্ট্যাক আইডি’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • ফসলের নাম পরিবর্তন: বিমাকৃত ফসলের নামে যদি কোনো ধরনের পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তবে তা ১৪ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

  • নাম প্রত্যাহার: এছাড়া, যেসব কৃষক স্বেচ্ছায় এই স্কিম থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করতে চান, তাঁরা আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘোষণাপত্র জমা দিয়ে তা করতে পারবেন।

অত্যন্ত সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম কাঠামো

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম কাঠামো, যা কৃষকদের ওপর কোনো বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করে না:

  • খারিফ শস্য, ডাল ও তৈলবীজ: কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়।

  • রবি শস্য: এই হার মাত্র ১.৫ শতাংশ

  • বাণিজ্যিক বা উদ্যানজাত শস্য: এর জন্য প্রিমিয়ামের পরিমাণ ৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

বাকি বিশাল অঙ্কের প্রিমিয়ামের টাকা যৌথভাবে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার বহন করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো খারিফ শস্যের মোট বিমা প্রিমিয়াম ১০,০০০ টাকা হয়, তবে কৃষককে মাত্র ২ শতাংশ অর্থাৎ ২০০ টাকা দিতে হবে এবং বাকি ৯,৮০০ টাকা সরকার পরিশোধ করবে।

কীভাবে জানবেন স্ট্যাটাস?

বর্তমানে সমস্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ডিজিটালাইজড হওয়ায় কৃষকদের আর বারবার সরকারি দপ্তরে চক্কর কাটতে হয় না। বিমা করার পর ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে দাবির সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন কৃষকরা। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ও ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে ‘ফার্মারর্স কর্নার’-এ লগইন করতে হবে। এরপর ‘ক্লেম স্ট্যাটাস’ বা ‘অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস’ অপশন বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট বছর ও ঋতু নির্বাচন করলেই সম্পূর্ণ তথ্য স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। যেকোনো ধরনের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪৪৭ চালু করা হয়েছে, যেখানে ফোন করে কৃষকরা সরাসরি নিজেদের সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *