পুরোনো কোম্পানির পিএফ অ্যাকাউন্ট ভুলে গেছেন? আধার কার্ডের টানেই এবার সব টাকা আসবে সোজাসুজি হাতে!

চাকরি বদলানোর সময় অনেকেই পুরোনো কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (EPFO) অ্যাকাউন্টটি নতুন অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করতে ভুলে যান। আবার অনেক সময় প্রযুক্তিগত ঝামেলার কারণে তা সম্ভবও হয় না। ফলে আমাদের কষ্টার্জিত জমানো টাকা সেই পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোতেই পড়ে থাকে, যা আমরা একপ্রকার ভুলেই যাই। সাধারণ মানুষের এই আর্থিক ভোগান্তি দূর করতেই এবার কেন্দ্র সরকারের তরফে আনা হয়েছে এক নতুন ডিজিটাল পোর্টাল— ‘ই-প্রাপ্তি’।

কীভাবে কাজ করে এই নতুন পোর্টাল?
সম্পূর্ণ আধার কার্ডের (Aadhaar) ভিত্তিতে কাজ করে এই ডিজিটাল পোর্টালটি। এর সাহায্যে সাধারণ কর্মজীবীরা খুব সহজেই তাঁদের সমস্ত পুরোনো এবং নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টগুলি খুঁজে বের করতে পারবেন। পাশাপাশি, বর্তমান সক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টের (UAN) সঙ্গে সেই টাকা যুক্ত করা এখন জলভাত।

পোর্টালে প্রবেশ করার পর আধার কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়। পুরোনো অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়ার পর গ্রাহকদের সামনে মূলত দুটি দুর্দান্ত বিকল্প থাকে:

টাকা স্থানান্তর: পুরোনো অ্যাকাউন্টের সমস্ত জমানো টাকা বর্তমান সক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে এক জায়গায় সুরক্ষিত রাখা।

টাকা তোলা: জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি সেই তহবিল তুলে নেওয়া বা দাবি (Claim) করার সুবিধা। এর ফলে পিএফ-এর টাকার জন্য আর বিভিন্ন অফিসে চক্কর কাটতে হবে না।

পুরোনো তথ্য জানা কি বাধ্যতামূলক?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, পুরোনো পিএফ অ্যাকাউন্ট নম্বর বা বিশদ তথ্য মনে না থাকলে এই পোর্টাল কীভাবে সাহায্য করবে? সম্প্রতি সংসদে এই প্রশ্ন উত্থাপিত হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শোভা করন্দলাজে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পুরোনো পিএফ ব্যালেন্স খুঁজে পেতে গেলে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক তথ্য অথবা সেটির সঙ্গে আধারের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারের বর্তমান এমন কোনো পরিকল্পনা নেই যেখানে সম্পূর্ণ তথ্য ছাড়া অ্যাকাউন্ট খুঁজে দেওয়া সম্ভব।

কাগজের ঝঞ্ঝাট ও দালালরাজের অবসান
এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে পিএফ সংক্রান্ত কাগজের কাজের ঝামেলা একপ্রকার চুকে যেতে বসেছে। অতীতে পিএফ অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করা বেশ ঝক্কির ব্যাপার হলেও, এখন অনলাইনে খুব সহজেই একটি “যৌথ ঘোষণা” ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব। এর ফলে তথ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন হওয়ায় দালাল চক্র ও অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের কোনো সুযোগ থাকছে না।

৮.২৫% সুদের সুখবর
পুরোনো অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করার এই সুবিধার পাশাপাশি ইপিএফও (EPFO)-এর সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি কর্মীর জন্য রয়েছে আরও এক বড় সুখবর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য নির্ধারিত ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদের টাকা ইতিমধ্যেই কর্মচারীদের পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শুরু হয়ে গেছে এবং এই প্রক্রিয়া বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *