ঘুষের টাকা নিতেই হাতেনাতে গ্রেফতার! উল্টে ভিজিল্যান্স টিমকে ২০ ঘণ্টা আটকে রাখলেন সরকারি কর্মীরা?

ঘুষের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স বা দুর্নীতিদমন শাখার অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরাখণ্ডের সিতারগঞ্জ তহসিল চত্বর। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করার পর ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা তহসিল ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর জেরে ভিজিল্যান্স টিম এবং ধৃত অভিযুক্তরা টানা ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা?
দীর্ঘদিন ধরে চলা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই ফাঁদ পাতে ভিজিল্যান্স বিভাগ। বুধবার বিকেল ৩:৪৫ নাগাদ সিতারগঞ্জ তহসিলের সংগ্রহ কক্ষে অভিযান চালিয়ে কালেকশন আমিন মদন শর্মা এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট (‘বড়ে বাবু’) উপেন্দ্র রানাকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতে-নাতে ধরে ফেলেন গোয়েন্দারা। প্রশাসনের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনেই এই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তহসিলে ধুন্ধুমার: ২০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ভিজিল্যান্স টিম
ভিজিল্যান্সের এই পদক্ষেপের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন নিচের তলার তহসিল কর্মচারীরা। গোয়েন্দা দলটিকে বাইরে বের হতে বাধা দিতে তহসিল কমপ্লেক্সের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা পরের দিন পর্যন্ত গড়ায়। ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কর্মচারীরা গেট খুলতে নারাজ হন, যার ফলে ভেতরের দলটি কার্যত আটকে পড়ে।

পুলিশ ক্যাম্প ও চরম উত্তেজনা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গভীর রাতে পুরো তহসিল চত্বরটিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং পুলিশ ক্যাম্পে রূপান্তরিত করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও তহসিল কর্তৃপক্ষ বা কর্মচারীরা গেটের তালা খুলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিজিল্যান্স বিভাগ বনাম তহসিল প্রশাসনের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। কর্মচারীদের দাবি এই অভিযান অন্যায্য, অন্যদিকে ভিজিল্যান্স সাফ জানিয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপস করা হবে না। এই উত্তেজনার জেরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী ও পটোয়ারি সমিতির সদস্যরা সিতারগঞ্জ তহসিলে এসে জড়ো হতে শুরু করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *