‘পিছনের বেঞ্চে যারা আছে, তারা আরও ভারী!’ বীরভূমে পুলিশি অভিযান নিয়ে দিলীপ ঘোষের সপাট মন্তব্য

বীরভূমে কয়লা ও পাথর ব্যবসার সাম্রাজ্য এবং তার নেপথ্যের প্রভাবশালী যোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ তুঙ্গে। এক পাথর ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাড়িতে গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এক মেগা অভিযান চালানো হয়। রাতভর চলা এই তল্লাশি অভিযানে আর্থিক লেনদেনের হিসেব কষতে একেবারে পাঁচটি নোট গোনার মেশিন নিয়ে আসতে হয় তদন্তকারীদের। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ।
সূত্রের খবর, বীরভূমের এক পরিচিত পাথর ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের বাড়িতে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। টানা রাতভর তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও সম্পত্তির হদিশ পেতে একে একে মোট পাঁচটি ক্যাশ কাউন্টিং বা নোট গোনার মেশিন আনা হয়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারের নীতি ও প্রভাবশালীদের যোগ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এদিনের পুলিশি অভিযান ও উদ্ধার হওয়া অর্থের ইঙ্গিত করে তিনি সপাট ভাষায় মন্তব্য করেন, সামনে যাঁদের নাম আসছে তাঁরা তো কেবল মাধ্যম মাত্র, ‘পিছনের বেঞ্চে যারা আছে তাঁরা আরও ভারী!’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এখন নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। অতীতে টুলু মণ্ডল বা অন্যান্য প্রভাবশালী যোগের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষের এই ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বীরভূমের প্রশাসনিক মহলে বিরাট জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
গোটা ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথর ব্যবসার আড়ালে কিসের কালোবাজারি চলছে এবং এই মেগা অভিযানের শেষ পর্যন্ত কোন গন্তব্যে পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার।