পুরনো জমানার স্বজনপোষণ আর ভয় দেখানো শেষ! বদলির আশায় সোজা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে নার্স মহুয়া

রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আশার মেলবন্ধন ঘটিয়ে চলছে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। আজ, বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচির অষ্টম দিন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা জটিল সমস্যা ও আইনি মারপ্যাঁচে আটকে থাকা অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এই গণ-দরবার এখন উপচে পড়া ভিড়ে মুখর।
১. স্বজনপোষণ ও বদলি আতঙ্ক: মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন নার্স মহুয়া
এদিনের দরবারে সবচেয়ে চর্চিত মুখ পেশায় নার্স মহুয়া মাইতি। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে তাঁকে হেনস্তা করে বদলি করা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা পাননি। রাজনৈতিক ভয় দেখিয়ে অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে মহুয়া বলেন, সরকার বদল হওয়ায় এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর এই বহুদিনের বদলি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।
২. সুন্দরবন থেকে এসএসকেএম—মেয়ের হার্টের ছিদ্রে অসহায় মায়ের আর্তি
শুধু কর্মক্ষেত্রের বঞ্চনা নয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও সুদূর সুন্দরবন থেকে ছুটে এসেছেন এক মা। ২০২৩ সালে জানা যায়, তাঁর মেয়ে মনীষা গুপ্তার হার্টে ফুটো রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসএসকেএম সহ বিভিন্ন বড় হাসপাতালে চক্কর কেটেও যখন কোনো সুরাহা মেলেনি, তখন শেষ ভরসা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারকেই বেছে নেন মা আরতি গুপ্তা।
৩. কৃষ্ণনগরের চাঞ্চল্যকর অ্যাসিড হামলা ও খুনের বিচার চাইতে দরবারে পরিবার
তালিকায় রয়েছে কৃষ্ণনগরের আশ্রমপাড়ার এক মর্মান্তিক ঘটনাও। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাসিড আক্রান্ত হয়ে খুন হন এক তরুণী। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি বয়ান বদলানোর জন্য পুলিশ ও স্থানীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রর পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন সময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ ন্যায়বিচারের আশায় আবারও তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন নিহতের পরিবার।
৪. পঞ্চায়েত কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবি
ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি সমষ্টিগত বঞ্চনার চিত্রও উঠে এসেছে এদিনের দরবারে। তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ববর্তী আমলে পঞ্চায়েত দপ্তরের নিচুতলার কর্মীদের স্থায়ীকরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অজুহাত দেখিয়ে বছরের পর বছর তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার পঞ্চায়েত দপ্তরের উন্নয়নে নতুন একাধিক পদক্ষেপ করায়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পঞ্চায়েত কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ কর্মসূচিতে।