“দলে আর কোনও ঝামেলা নেই!” কোন্দল মিটতেই পাঞ্জাবে প্রকাণ্ড চাল চালল কংগ্রেস, ময়দানে বাঘেল

দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও নেতৃত্ব সংকট সামলে উঠে এবার আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নামল পাঞ্জাব কংগ্রেস। দলীয় কোন্দল মিটে যাওয়ার পর, রাজ্যে নিজেদের জমি শক্ত করতে ও সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করতে এক বিশাল সাংগঠনিক প্রচার অভিযানের সূচনা করতে চলেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।
বৃহস্পতিবার থেকেই পাঞ্জাবে এই মেগা প্রচার অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। দলের অন্দরের ক্ষোভ প্র প্রশমিত করতে এবং নির্বাচনী কৌশল তৈরি করতে আবারও পাঞ্জাব সফরে যাচ্ছেন কংগ্রেসের পাঞ্জাব ইন-চার্জ তথা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। তিনি ৩১শে জুলাই থেকে আগামী ৮ই আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা সফর করবেন।
প্রতিটি জেলায় জেলা সভাপতিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক
পাঞ্জাব কংগ্রেস সূত্রের খবর, ভূপেশ বাঘেলের এই সফর মূলত বিধানসভা নির্বাচনের মহড়ারই আনুষ্ঠানিক সূচনা। সফরকালে বাঘেল রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা সভাপতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।
রাজনৈতিক রিপোর্ট পর্যালোচনা: প্রতিটি জেলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা ও সাংগঠনিক স্তরের খতিয়ান নিয়ে মতামত সংগ্রহ করা হবে।
বুথ স্তরে জোর: বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।
জনসংযোগে জোর: মূল লক্ষ্য থাকবে সংগঠন সম্প্রসারণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা।
ভূপেশ বাঘেলের ৮ দিনের সফরসূচি
বৃহস্পতিবার চণ্ডীগড়ে পৌঁছানোর পর থেকে বাঘেলের টানা সফরসূচি নির্ধারিত হয়েছে:
৩১শে জুলাই: ফতেহগড় সাহেব ও মোহালি।
১লা আগস্ট: পাতিয়ালা ও সাংরুর।
২রা আগস্ট: বারনালা ও মানসা।
৩রা আগস্ট: বাথিন্দা ও মুক্তসর।
৪ঠা আগস্ট: ফাজিলকা ও ফিরোজপুর।
৫ই আগস্ট: মোগা ও ফরিদকোট।
৬ই আগস্ট: লুধিয়ানা (শহর ও গ্রামাঞ্চল)।
৭ই আগস্ট: মালেরকোটলা ও খান্না।
৮ই আগস্ট: এসবিএস নগর ও রোপার।
কীভাবে মিটল চান্নি-ওয়ারিং বিবাদ?
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি পদ নিয়ে ব্যাপক অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। গত ১লা জুলাই হাইকমান্ড ঘোষণা করে যে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং-ই পাঞ্জাব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি পদে বহাল থাকবেন। এই সিদ্ধান্তেরই প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নি।
তবে ভূপেশ বাঘেলের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৬ই জুলাই নতুন দিল্লিতে দলের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপালের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের পর চান্নির বরফ গলে। বৈঠক শেষে চান্নি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “দলের মধ্যে এখন সবকিছু ঠিক আছে। আমরা সবাই হাইকমান্ডের সঙ্গেই রয়েছি।” অভ্যন্তরীণ এই কালো মেঘ কাটার পরেই এবার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামছে হস্ত চিহ্ন শিবির।