মাত্র ৪০০ টাকার জন্য খুড়তুতো ভাইয়ের নির্মম রূপ! পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে কুয়োয় ফেলল নাবালককে

মাত্র কয়েকশো টাকার বিবাদে রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। ঝাঁসি জেলার বাবিনা থানা এলাকার খাজরাহা বুজুর্গ গ্রামে ঘটে গেছে এমনই এক হাড়হিম করা মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ৪০০ টাকার মজুরি নিয়ে বচসার জেরে ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাই অঙ্কিত আহিরওয়ারকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করল তার নিজেরই খুড়তুতো ভাই। শুধু তাই নয়, অপরাধ ঢাকতে প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি ফেলে দেওয়া হয় একটি পরিত্যক্ত কুয়োয়!
গত ১৮ই জুলাই সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল ১৫ বছরের কিশোর অঙ্কিত। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করতেই পরদিন গ্রামের এক কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনো ভারী পাথর দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।
কল ডিটেইলস ও মজুরির হিসেব মেলানোয় ফাঁস আসল রহস্য!
ঘটনার তদন্তে নেমে বাবিনা থানা পুলিশ ও সোয়াট টিম বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর জোর দেয়। নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (CDR) স্ক্যান করতেই দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন অঙ্কিত তার খুড়তুতো ভাই আশিক আহিরওয়ারের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছিল। তাঁরা দুজনে রোজ বড়ৌড়া গ্রামে একসঙ্গে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত।
সন্দেহের বশে পুলিশ আশিককে হেফাজতে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই ভেঙে পড়ে সে এবং স্বীকার করে নিজের জঘন্য অপরাধের কথা।
৪০০ টাকার বচসা ও রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের পুরো গল্প
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আশিক জানায়:
মজুরির বিতর্ক: কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে অঙ্কিত মোট ১,২০০ টাকা পেয়েছিল, যার মধ্যে ৪০০ টাকা আশিকের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু অঙ্কিত সেই টাকা পাওয়ার কথা সাফ অস্বীকার করে।
মাথায় পাথরের আঘাত: ঘটনার দিন একটি কুয়োর কাছে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড বাদানুবাদ হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে আশিক কাছে পড়ে থাকা একটি ভারী পাথর তুলে অঙ্কিতের মাথায় পরপর কয়েকবার মরণঘাতী আঘাত করে।
প্রমাণ লোপাট: অঙ্কিত রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা গেলে, প্রমাণ ঢাকতে আশিক তার দেহটি কুয়োর ভেতর ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়।
খুনের রক্তমাখা পাথর উদ্ধার, গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া
অভিযুক্ত আশিক আহিরওয়ারের স্বীকারোক্তির পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা পাথরটি উদ্ধার করেছে। তাকে আদালতে পেশ করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
যাকে এতদিন পরিবারের সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত ভাই বলে ভাবা হতো, সেই দাদা কীভাবে সামান্য ৪০০ টাকার জন্য ছোট ভাইকে এমন নৃশংসভাবে খুন করতে পারে—তা ভেবেই এখন পুরো গ্রামে নেমে এসেছে চরম নিস্তব্ধতা ও শোকের ছায়া।