১২ বছর পর ফুটল বিরল ‘নীলকুরিঞ্জি’! ফুল ছুঁলেই ৩ বছরের জেল, বিপুল জরিমানার নির্দেশ সরকারের

যে ফুল এক যুগে অর্থাৎ ১২ বছরে মাত্র একবার ফোটে, তাকে ঘিরে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের চরম উন্মাদনা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক! দীর্ঘ ১২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নীল-বেগুনি রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে তামিলনাড়ুর পাহাড়। ৪ ধার ঝোপের মতো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।
দূর-দূরান্ত থেকে কেবল এই বিরল ফুলের অসামান্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে তামিলনাড়ুর গুডালুর, ওসিমালাই, ও’ভ্যালি এবং নাডুকানি অঞ্চলে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রকৃতিপ্রেমী, সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও আলোকচিত্রীরা ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চেপে ছুটে আসছেন। কারণ, এবার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলে আবার গুনে গুনে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হবে!
সাবধান! ফুলে হাত দিলেই ৩ বছরের জেল ও নগদ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা
নীলকুরিঞ্জি ফুল দেখতে আসা ভিড় সামলাতে এবং ফুলের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তামিলনাড়ু বন বিভাগ। সাধারণ মানুষের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে:
১. ফুলে হাত দেওয়া বা তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: এই বিরল ফুল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কেউ যদি নীলকুরিঞ্জি ফুলে হাত দেন, ফুল ছেঁড়ার চেষ্টা করেন কিংবা গাছ নষ্ট করেন—তবে তাঁকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। শাস্তি হিসেবে হতে পারে ৩ বছর পর্যন্ত কারাবাস অথবা ২৫,০০০ টাকা জরিমানা, কিংবা দুটিই একসঙ্গে লাগু হতে পারে।
২. বুনো হাতির হামলার মারাত্মক ঝুঁকি: নীলকুরিঞ্জি ফুল যে সমস্ত পাহাড়ি এলাকায় ফুটেছে, সেই অঞ্চলগুলি বুনো হাতির বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ফুলের টানে পর্যটকরা গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়লে যে কোনো মুহূর্তে হাতির হামলার মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে বন দফতর।
প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময় ‘নীলকুরিঞ্জি’
পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নীলগিরি পাহাড়ের নাম এই ‘নীলকুরিঞ্জি’ (Neelakurinji) ফুলের নামানুসারেই হয়েছে বলে মনে করা হয়। ১২ বছর অন্তর যখন এই ফুল ফোটে, তখন পুরো পাহাড়জুড়ে বেগুনি-নীল রঙের গালিচা বিছানো রয়েছে বলে মনে হয়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি চর্মচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা মিস করতে চান না কেউই, তাই কড়া নিয়ম ও হাতির ঝুঁকি সত্ত্বেও তামিলনাড়ুর গুডালুরে এখন ভিড় সামলাতে নাভিশ্বাস উঠছে প্রশাসনের।