নাইস রোড প্রকল্পে হাই কোর্টের বড় ধাক্কা! বাতিল জমি অধিগ্রহণ, স্বস্তিতে শত শত কৃষক

নাইস (NANDI Infrastructure Corridor Enterprises – NICE) রোড প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংস্থাসংঘের দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিল কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন জমিহারা শত শত কৃষক।
বিচারপতি ডি. কে. সিং এবং বিচারপতি টি. এম. নদাফের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নাইস (NICE) কর্তৃপক্ষের আপিল খারিজ করে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালতে কৃষকদের পক্ষে অভিজ্ঞ প্রবীণ আইনজীবী এইচ. এন. শশীধর সওয়াল করেন।
নাইস রোড প্রকল্প নিয়ে আদালতের চরম অসন্তোষ
মামলার শুনানি চলাকালীন কর্নাটক হাই কোর্ট নাইস রোড প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে:
জলাশয় ও ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ: আদালত উল্লেখ করে যে, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একাধিক পুকুর, জলাশয় এবং কৃষকদের ব্যক্তিগত জমি বেআইনিভাবে দখল বা দখলীকরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা: বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, এই ধরনের অভিযোগের প্রকৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। তাই এই পুরো প্রকল্পের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
কোটি কোটি টাকার টোল আদায়, অথচ মেলেনি সঠিক ক্ষতিপূরণ!
শুনানিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত অসংগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ:
“সড়ক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টোল রাজস্ব আদায় করা সত্ত্বেও জমি হারানো বহু কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দিয়েই জমি হস্তগত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিশদভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
স্বাধীন তদন্ত ও ফরেনসিক অডিটের সুপারিশ
নাইস রোড প্রকল্পের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করে হাই কোর্ট।
পুরো জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নাইস রোড প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিস্তৃত ফরেনসিক অডিট (Forensic Audit) করার ওপর জোর দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
নাইস কর্তৃপক্ষের আপিল খারিজ হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের অবস্থান আরও শক্ত হলো, যা এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এক নতুন মোড় এনে দিল।