‘উপরে ভগবান, নীচে প্রধান’ দিন শেষ! পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাস বিধানসভায়, বিরোধীদের ধুয়ে দিলেন জগন্নাথ-তরুণজ্যোতি

রাজ্যের গ্রামীণ প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়নমূলক কাজকে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিপুল ভোটে পাস হলো ‘পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল’। নতুন এই আইনের ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানদের প্রশাসনিক ও আর্থিক একচ্ছত্র ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ঘটানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের যেকোনো অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এক্সিকিউティブ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং সচিবের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধান শুধুমাত্র প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান করবেন। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চায়েত স্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রধানদের অনুপস্থিতি বা অনিয়মের কারণে ১০০ দিনের কাজসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থমকে যাচ্ছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই আইন সংস্কার করা হলো।

বিধানসভায় শাসক-বিরোধী তপ্ত বাকযুদ্ধ
বিল পাসকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিলটির সপক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়ে বলেন:

“গত ১৫ বছরে পঞ্চায়েতব্যবস্থাকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ না করে ‘বংশগ্রহণমূলক’ কায়দায় চালানো হয়েছে। দুর্নীতির কারণে পুরো পঞ্চায়েত কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। সাময়িকভাবে প্রশাসনিক গতি আনতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি ছিল।”

অন্যদিকে, বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও পঞ্চায়েতের বিগত সময়ের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে সুর চড়ান এবং স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমজনতার প্রাপ্য সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই আইন সহায়ক হবে।

তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, এ ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। সমস্ত বিতর্ক ও ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে অবশেষে এই ঐতিহাসিক সংশোধনী বিলটি বিধানসভায় গৃহীত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *