মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা! ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তারক্ষীদের মেগা অভিযানে ধরা পড়ল শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা!

ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীবিরোধী অভিযানে ইতিহাস গড়ল যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য তথা শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতার মাথার দাম ছিল নগদ ১ কোটি টাকা।
তাঁর পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু (মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা) এবং অন্যতম সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ।
গোপন সূত্রের খবরের পর যৌথ বাহিনীর ‘মেগা অপারেশন’
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানবাদ ও গিরিডি সীমান্ত এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় কোবরা (CoBRA), সিআরপিএফ (CRPF) এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি যৌথ দল। সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানেই মাওবাদীদের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হয় বাহিনী। ধৃত মাওবাদী নেতাদের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই স্থানীয় গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে।
গিরিডি জেলার পিরতাঁড় থানার মাদান্ডিহ গ্রামের বাসিন্দা মিসির বেসরা মাওবাদী মহলে ভাস্কর, সুনির্মল ও সাগর নামেও পরিচিত ছিল। ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা— এই তিন রাজ্যে মাওবাদী নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও বিস্তারে মূল কারিগর ছিল এই মিসির বেসরা।
সারান্ডা থেকে কোলহান: কী ভূমিকা ছিল ধৃতদের?
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি অনুযায়ী, সারান্ডা, পোরাহাট এবং কোলহানের ঘন জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি, সশস্ত্র হামলার ছক কষা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন রাজ্যের মাওবাদী ক্যাডারদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার মূল দায়িত্বে ছিল মিসির।
অন্যদিকে, ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু (যার আসল নাম বিভীষণ ওরফে কুম্বা মুর্মু) ধানবাদের বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধার বাসিন্দা। মিসির বেসরার ডানহাত হিসেবে কাজ করত সে। এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি ও মাওবাদী প্রচার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিত মোচ্ছু। তার মাথার দাম ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা ধার্য করেছিল।
মাওবাদী সংগঠনে বড়সড় ধস
পুলিশ প্রশাসনের দাবি, মিসির বেসরা ও মোচ্ছুর এই জোড়া গ্রেপ্তারি ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে মাওবাদী আন্দোলনের মেরুদণ্ড ভেঙে দিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যান্য পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের হামলার ছক জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে রাজ্যে মাওবাদীদের সংখ্যা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। পুরো রাজ্যজুড়ে বর্তমানে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী পলাতক রয়েছে, যাদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।