“ক্যামেরার নয়, আগে মনের অ্যাঙ্গেল বদলান!” লোকসভায় মোদীকে বেনজির আক্রমণ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর!

দেশজুড়ে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে লোকসভায় কেন্দ্র সরকারকে চরম কোণঠাসা করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মঙ্গলবার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল না-বদলে, এবার নিজের মনের অ্যাঙ্গেল বদলান।”
পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং পেলেট গান চালানোর তীব্র নিন্দা জানান তিনি। প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কার নির্দেশে নিষ্পাপ ছাত্রছাত্রীদের ওপর এই অমানবিক অত্যাচার চালানো হলো?
💔 ‘সবচেয়ে বড় অপরাধ যুবসমাজের স্বপ্ন চুরি’
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদী সরকারের নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন:
প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য: “এই সরকারের জামানায় দেশ অনেক চুরি দেখেছে—ভোটে চুরি, রামমন্দিরের অনুদানে চুরি, দেশের সম্পত্তি থেকে কৃষকদের জমি চুরি। কিন্তু সবথেকে বড় অপরাধ হলো দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন চুরি করা! এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছুই হতে পারে না।”
তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে প্রায় ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাড়ে সাতশো কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও কাউকেই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়নি।
💥 নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও সংসদে হট্টগোল
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রকের পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীর দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে সুর চড়ান প্রিয়াঙ্কা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, একদিকে মহারাষ্ট্রে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে হতাশ হয়ে এক ছাত্রী প্রাণ হারাচ্ছে, আর অন্যদিকে সংসদে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে পুষ্পবৃষ্টি দিয়ে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
এরপরই নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিলকিস বানো মামলার আসামিদের মুক্তির সমর্থনে বক্তব্য রাখা একজন ব্যক্তি কীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল পদ সামলাবেন?
প্রিয়াঙ্কার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর লিখিত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
🧐 টাস্কফোর্স ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শদাতাদের বিদ্রুপ
পরীক্ষার সংস্কারে কেন্দ্র গঠিত নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি দাবি করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সরকার যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থার আসল সমস্যা বোঝার মতো অভিজ্ঞতাই নেই। অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের পরামর্শদাতা দল পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন তিনি।