গর্ভাবস্থায় শরীরে বা গোপনাঙ্গে অতিরিক্ত চুলকানি? অবহেলা করলেই ছড়াতে পারে বড় বিপদ!

গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু এই সময়ে শরীরে বা গোপনাঙ্গে অতিরিক্ত চুলকানি ও অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়াকে ‘সাধারণ সমস্যা’ মনে করে এড়িয়ে চললে তা মা ও গর্ভস্থ শিশু— দুজনের জন্যই মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে!
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত চুলকানি আসলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো জটিলতা বা বিশেষ কিছু সংক্রমণের পূর্বাভাস। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করালে বড়সড় মাশুল গুনতে হতে পারে।
📌 যে ৩টি প্রধান কারণে দেখা দেয় এই সমস্যা:
-
১. ইস্ট ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (Yeast Infection): গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যে যোনিপথের প্রাকৃতিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে ‘ক্যান্ডিডা’ নামক ফাঙ্গাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তীব্র চুলকানি, লালভাব এবং পনিরের মতো ঘন সাদা স্রাব নিঃসরণ হতে পারে। প্রসবের সময় শিশুর শরীরে এটি ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
-
২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (Bacterial Vaginosis – BV): এটি এক ধরণের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এই সমস্যায় চুলকানির সাথে দুর্গন্ধযুক্ত ও ধূসর-সাদাটে জলের মতো পাতলা স্রাব নির্গত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে সময়ের আগেই সন্তান প্রসব (Premature Delivery) বা কম ওজনের শিশু জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
-
৩. গর্ভাবস্থার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক কোলেস্টেসিস (ICP): কোনো ফুসকুড়ি বা র্যাশ ছাড়াই যদি বিশেষ করে রাতের বেলায় হাত ও পায়ের তলায় তীব্র চুলকানি হয়, তবে তা লিভার বা যকৃতের মারাত্মক ব্যাধি ‘কোলেস্টেসিস’-এর লক্ষণ হতে পারে। এতে গাঢ় প্রস্রাব ও চোখ-ত্বক হলুদ হতে শুরু করে। এটি সরাসরি গর্ভপাত বা ভ্রূণের অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে!
“গর্ভাবস্থায় শরীর কোনো অস্বস্তির সংকেত দিলে তা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া মানেই বিপদ ডেকে আনা।” — বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকমহল।
💡 এই পরিস্থিতিতে করণীয় ও সাবধানতা:
-
চিকিৎসকের পরামর্শ: যত্রতত্র বাজারচলতি ক্রিম, অ্যান্টিসেপটিক বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার না করে অবিলম্বে গাইনোকোলজিস্টের (Gynaecologist) শরণাপন্ন হন।
-
সুতির পোশাক নির্বাচন: আর্দ্রতা ও ঘেমে যাওয়া এড়াতে সব সময় ঢিলেঢালা সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
-
সঠিক পরিচ্ছন্নতা: অতিরিক্ত কেমিক্যাল বা সুগন্ধযুক্ত সাবান বা ভেজাইনাল ওয়াশ ব্যবহার এড়িয়ে স্থানটি সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।
নিরাপদ মাতৃত্বের প্রথম শর্তই হলো সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। কোনো ছোট লক্ষণকেও হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমত্তার কাজ।