৩ লাখের সুপারি দিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে খুন! বহুচর্চিত দিলীপ রাম হত্যাকাণ্ডে আদালত দিল ঐতিহাসিক রায়

সাত বছর আগে ব্যান্ডেল স্টেশনে ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা দিলীপ রামের প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় অবশেষে বড় রায় দিল চুঁচুড়া আদালত। মঙ্গলবার চুঁচুড়ার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় এই বহুচর্চিত মামলায় সাতজন অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন)-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বুধবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হবে।
তবে আদালতের এই রায়ের পরও স্বস্তি মেলেনি নিহতের পরিবারে, কারণ এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড তথা এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি শকুন্তলা যাদব ওরফে সমুন্দ্রি যাদব এবং তাঁর এক ছেলে এখনও অধরা।
কীভাবে হয়েছিল এই রক্তক্ষয়ী আক্রমণ?
ঘটনাটি ২০১৯ সালের ২৯ জুনের। সেদিন সকালে নৈহাটিতে নিজের কর্মস্থলে (রেলের পিডব্লিউআই অফিস) যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ব্যান্ডেলের দাপুটে তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম।
-
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি: সকাল ৯টা নাগাদ ব্যান্ডেল স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার মুখে রেললাইনের ওপর তাঁকে ঘিরে ধরে দুষ্কৃতীরা। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়।
-
আতঙ্ক ও চম্পট: রক্তাক্ত অবস্থায় প্ল্যাটফর্মেই লুটিয়ে পড়েন দিলীপ। স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের ভয় দেখাতে ও চম্পট দিতে শূন্যেও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জমি বিবাদ ও ৩ লাখের সুপারি
ঘটনার তদন্তে নেমে ব্যান্ডেল জিআরপি এবং পরবর্তীতে চুঁচুড়া থানার পুলিশ জানতে পারে, এটি একটি ঠান্ডা মাথার সুপারি কিলিং ছিল।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ও সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, জমি সংক্রান্ত পুরনো শত্রুতার জেরে মাদক কারবারি শকুন্তলা যাদব ৩ লাখ টাকা সুপারি দিয়ে পেশাদার শুটারদের হায়ার করেছিল। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও মোট ৩৯ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়। মূল শুটার গুড্ডুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের ফরেন্সিক রিপোর্টেই প্রমাণিত হয় যে সেই রিভলভার থেকেই দিলীপ রামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল।
দোষী সাব্যস্ত যারা
আদালত চার্জশিটে থাকা নয়জনের মধ্যে সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। দোষীরা হলো— মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডু, মহম্মদ মানু, মহম্মদ সানু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক এবং মহম্মদ আকবর। তদন্তে মূল চক্রান্তকারী শকুন্তলা ও তার আরেক ছেলে আজাদের নাম উঠে আসলেও বর্তমানে তাঁরা পলাতক। পুলিশ তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।