বিদেশে মৃত ভারতীয়দের ৭৬ শতাংশই গালফেই! ৩ বছরে জীবন শেষ করেছেন ১,৭০০-র বেশি প্রবাসী, সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

জীবিকার সন্ধানে ঘর ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া ভারতীয়দের নিয়ে সামনে এল অত্যন্ত উদ্বেগের এক ছবি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশে যতজন ভারতীয় নাগরিক আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মৃত্যু ঘটেছে কেবল গালফ বা উপসাগরীয় দেশগুলোতেই। সম্প্রতি সংসদে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA) দ্বারা পেশ করা এক সরকারি তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পেশ করা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৩ বছরে মোট ১,৭৬৩ জন প্রবাসী ভারতীয় বিদেশে আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ১,৩৪০টি ঘটনাই ঘটেছে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (GCC) ভুক্ত ৬টি দেশে— সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইন। অর্থাৎ মোট আত্মহত্যার প্রায় ৭৬ শতাংশই ঘটেছে এই অঞ্চলটিতে।

গালফের দেশগুলোতে আত্মহত্যার খতিয়ান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গালফ অঞ্চলের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি:

সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): ৬৭৭ জন

সৌদি আরব: ৫৬৬ জন

কুয়েত: ৬০ জন

কাতার: ২২ জন

ওমান: ১৩ জন

বাহরাইন: ২ জন

বিদেশে মৃত্যুর সার্বিক চিত্র (২০২৩-২০২৫)
পররাষ্ট্র মন্ত্রক সংসদে জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সব মিলিয়ে ২৮,৩৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক বিদেশে প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে:

স্বাভাবিক মৃত্যু: ২৪,২৭৮ জন

সড়ক দুর্ঘটনা: ১,৬২২ জন

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা: ৬৮৬ জন

প্রবাসে ভারতীয়দের বিপুল উপস্থিতিই মূলত এই সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। কারণ, গৃহস্থালি কাজ, নির্মাণশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসে বসবাস করেন, যার বড় একটি অংশ রয়েছে গালফ দেশগুলোতে।

আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বার্ষিক মৃত্যুর হার!
পূর্ববর্তী সরকারি তথ্যের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মহত্যার বার্ষিক হার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৪-২০২২ (৯ বছর): এই সময়ে ৪,০০৫ জন প্রবাসীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, যার গড় ছিল বছরে প্রায় ৪৪৫ জন।

২০২৩-২০২৫ (৩ বছর): নতুন তথ্য অনুযায়ী বছরে গড়ে প্রায় ৫৮৮ জন প্রবাসী আত্মহত্যা করছেন।

কী কারণে বাড়ছে এই প্রবণতা?
উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, আর্থিক সমস্যা ও বিষণ্নতা নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। প্রবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ জোরদার করার দাবি নতুন করে সামনে এনে দিল সংসদের এই রিপোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *