‘এক অফিসার, এক সরকারি গাড়ি’-সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ অপব্যবহার রুখতে এবং প্রশাসনিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগের তরফে সম্প্রতি একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করে ‘এক অফিসার, এক সরকারি গাড়ি’ (One Officer, One Official Car) নীতি চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের কোনো আধিকারিকের কাছে যদি আগে থেকেই একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ থাকে, তবে তিনি যদি পরবর্তীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব বা অন্য কোনো মন্ত্রক, দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) কিংবা স্বশাসিত সংস্থার অতিরিক্ত চার্জও পান, তবুও তাঁকে কোনো অবস্থাতেই দ্বিতীয় কোনো সরকারি গাড়ি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, পদের বহর বা কাজের চাপ যতই বাড়ুক না কেন, একজন নির্দিষ্ট আধিকারিকের জন্য শুধুমাত্র একটি সরকারি গাড়িই বরাদ্দ থাকবে।
পাশাপাশি নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা এখন থেকে কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বশাসিত সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে হ্যাঁ, কোনো সরকারি দাপ্তরিক কাজ বা অফিসিয়াল সফরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গেলে, সেই কাজের প্রয়োজনে শুধুমাত্র সেই সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া যেসব সরকারি গাড়ি বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে পার্ক করে রেখে সেগুলির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?
অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি হওয়া পুরনো নির্দেশিকাকে আরও বেশি কার্যকর ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতেই এই নতুন নির্দেশিকা আনা হয়েছে। সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরে এই নিয়ম পাঠানো হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্যগুলি হলো:
-
সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু, বিচক্ষণ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
-
একজন মাত্র আধিকারিকের নামে একাধিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দের সংস্কৃতির চিরতরে অবসান ঘটানো।
-
সরকারি কোষাগারের ওপর থেকে জ্বালানি (Fuel) এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের অপ্রয়োজনীয় খরচের বোঝা কমানো।
জনসাধারণের করের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি প্রশাসনে অপচয় রোধ করতে কেন্দ্রের এই কড়া নীতি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।