“কথা না রাখলে আপনার বিরুদ্ধেও রাস্তায় নামব!” রাহুলকে মুখের ওপর সাফ জানিয়ে দিলেন ইন্টারনেট সেনসেশন ইরফান!

কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমনকি পার হননি স্কুলের গণ্ডিও। তা সত্ত্বেও দিল্লির যন্তর মন্তরে NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনে নিজের চাঁচাছোলা যুক্তিতে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন মহম্মদ ইরফান। গলায় গামছা এবং পরনে সাধারণ জামা—’ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) মঞ্চ থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ ও কবি আহমেদ ফারাজের কবিতা আউড়ে রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে ওঠা সেই ফেরিওয়ালা এবার সাক্ষাত্ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। তবে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি রাহুলকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছেন, গরিব ও শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে তাঁর বিরুদ্ধেও তীব্র আন্দোলনে নামতে দু’বার ভাববেন না তিনি।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নিজের এই বৈঠকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দিল্লির সাবদা জেজে কলোনির বাসিন্দা ইরফান। তিনি জানান, রাহুলকে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে তাঁকেও দেশের ক্ষমতার হাল ধরতে হতে পারে। তাই পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে দিনমজুরদের সার্বিক কল্যাণে এখন থেকেই যেন কার্যকর পদক্ষেপ করেন তিনি। প্রশংসার পাশাপাশি রাহুলকে সোজা ভাষায় ইরফান বলেন, “আপনি যদি কথা দিয়ে কথা না রাখেন বা প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে যান, তবে আপনার বিরুদ্ধেও আমরা এইভাবেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করব। আমি নিরপেক্ষ, আমি দেশের ভাল চাই। দেশ উন্নত হলে দেশের সব সাধারণ মানুষ যেন তার সুবিধা পায়, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।”
এনসিআরবি-র তথ্য তুলে ধরে বিস্ফোরক প্রশ্ন
স্মার্টফোনে ভয়েস সার্চ ব্যবহার করে ইউটিউব থেকেই নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা ইরফান দেশের শ্রমজীবী মানুষ ও ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরেন রাহুলের সামনে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এনসিআরবি (NCRB)-র রিপোর্ট বলছে দেশে যে পৌনে দু’লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, তার ৩১ শতাংশই দিনমজুর। আর্থিক অনটন ও চরম মানসিক চাপই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
ইরফানের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, সরকারি খাতায় ন্যূনতম মজুরি ১৮,০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘ ১০-১১ ঘণ্টা কাজ করে শ্রমিকরা পান মাত্র ১৩-১৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি, দশম বা দ্বাদশ শ্রেণীর আগেই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং আইটিআই কিংবা পলিটেকনিকের মতো সরকারি কলেজগুলি মধ্যবিত্তদের দখলে চলে যাওয়ায় গরিবের সন্তানরা কীভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেই নির্মম বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মজার ফোন ও রাহুলকে রসিকতা
কথোপকথনের মাঝেই হঠাৎ রাহুলের ফোনে কল করেন তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ফোন ধরে প্রিয়াঙ্কা আবদার করে ইরফানকে বলেন, “দয়া করে রাহুলকে বলুন এবার অন্তত বিয়েটা করে নিতে! ও আমার কথা একদমই শোনে না।” এই কথায় রসিকতা করে ইরফান জবাব দেন, “আমার তো মনে হয় রাহুলের বিয়ে না করাই ভাল! উনি আমার থেকে বয়সে বড় এবং সত্যিই মনখোলা একজন মানুষ।” পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রাহুল গান্ধী লেখেন, “ইরফানের চিন্তা ভাবনা দেশের তরুণ সমাজের প্রকৃত শক্তির প্রতীক। ওঁর মতো লাখ লাখ তরুণই এই দেশের আসল ভবিষ্যৎ।”
অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে ইরফানের
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরফান জানান, মতাদর্শগত ফারাক থাকলেও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর কোনো বাধা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগে তিনি দেখা করতে চান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে।
এলাকায় লাগামছাড়া মাদকের কারবার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইরফান বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। তাঁর বস্তির একটি ১২ বছরের শিশুও যেখানে জানে কোথায় গাঁজা বা মাদক বিক্রি হচ্ছে, সেখানে পুলিশ নাকি কিছুই জানে না! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলে পুলিশ প্রশাসনের এই চরম নিষ্ক্রিয়তার কথাই তিনি সবার আগে তুলে ধরবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।