“সোজা ভিতরে ঢোকানো উচিত!” SFI-CJP সংঘর্ষ নিয়ে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কারে শোরগোল

এসএফআইয়ের মিছিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির জেরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শান্তিপূর্ণ সেই মিছিল ঘিরে তৈরি হওয়া হাঙ্গামায় পুলিশ থেকে শুরু করে সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজন তৃণমূল ও সিপিএম সমর্থককে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে আবার শাসক দলের নির্দিষ্ট কিছু বিধায়কের সঙ্গেও দেখা গেছে। এই স্পর্শকাতর পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এদিন কঠোর ভাষায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে বা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। এদের সোজা ভিতরে ঢোকানো দরকার। এই সমস্ত অ্যান্টি-সোশ্যাল বা অসামাজিক উপাদান যারা বিভিন্ন ব্যানারের তলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর যারা তাদের সেই ব্যানারের নীচে আশ্রয় দিচ্ছে—সব ক’টাকে ভিতরে ঢোকানো উচিত। আমাদের সরকার তাদের ছাড়বেও না, কারণ সমস্ত ভিডিও প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।”
পাশাপাশি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের প্রতিটি মানুষের উচিত এই ককরোচ পার্টি এবং তাদের সমমনা দেশবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তোলা। তাঁর কথায়, “আমাদের বিধায়করা বিধানসভায় কালো ব্যাজ পরে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এরা হয়তো ভেবেছে যা ইচ্ছে তাই করাটাই গণতন্ত্র, কিন্তু এমনটা কখনই চলতে পারে না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই এদের বিপক্ষে রয়েছে এবং সেই মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা সকলেরই আছে।”
বিরোধীদেরও এদিন একহাত নেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের মন্ত্রীর দাবি, “ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিল, যা পরে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বুঝতে পেরে সরে এসেছে। তাদের আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট ছিল, যা মিটেছে—শিক্ষামন্ত্রী তো পদত্যাগ করেছেনই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে ছাত্রদের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাগ্রে। কিন্তু যারা ছাত্রদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছিল, তারা এখন রাস্তায় বসে পড়েছে। এমন চক্রান্ত বারবার হয়েছে এবং প্রতিবারই তা বিফল হয়েছে। সমাজের উচিত এমন মানুষদের চিনে রাখা, যাতে ভবিষ্যতে সমাজে তাদের কোনো স্থান না থাকে।”
এদিকে ফের নতুন করে আন্দোলনের বসার ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই প্রসঙ্গেই তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দিলীপ বলেন, “আবার আন্দোলনে বসুক, নিজেদের বক্তব্য রাখুক। গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা থাকা উচিত। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে; পঞ্জাব বা তেলঙ্গনার মতো আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতেও এমন হয়েছে। সেখানে তো কেউ সংশ্লিষ্ট শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায়নি? কিন্তু এক্ষেত্রে ঠিক যাঁদের দরকার, তাঁরাই এখানে এসে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। এতেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে এর নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।”