ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ ঠেকাতে কোন গোপন প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র? ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নিট-সহ একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড ঘিরে রাজধানী দিল্লির রাজপথ যখন উত্তাল, ঠিক তখনই কেন্দ্রের অলিন্দ থেকে ভেসে এল এক চাঞ্চল্যকর খবর। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র জোরদার আন্দোলনের মুখে পড়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে প্রথমে কিন্তু অন্য কৌশল নিয়েছিল কেন্দ্র। ইস্তফা নয়, বরং তাঁর মন্ত্রক বদলে দেওয়ার প্রস্তাবই প্রথমে দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনের নেতৃত্বকে! কিন্তু সিজেপি-র একঘেয়ে জেদের সামনে নতি স্বীকার করেই শেষমেশ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট থেকেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

জানা গিয়েছে, আন্দোলন থামানোর লক্ষ্যে গত ২০ জুলাই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং একটি গোপনীয় বৈঠকে বসেন সিজেপি-র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। সেখানে সিজেপি-র প্রধান মুখ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সামনে প্রস্তাব দেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রক থেকে সরিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সিজেপির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, শুধু মন্ত্রক বদল নয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়া অন্য কোনও শর্তে তাঁরা আপস করবেন না। তাঁদের যুক্তি ছিল, এই অর্ধেক রফায় রাজি হলে দিল্লির রাজপথে লড়াই করা সাধারণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, কাকে মন্ত্রী রাখা হবে বা কার দফতর বদলানো হবে— তা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু সে কথায় কান দিতে নারাজ ছিল সিজেপি। বিরোধীদের তরফ থেকেও একই সুর পাওয়া যায়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও প্রকাশ্যে দাবি তুলেছিলেন, শিক্ষাব্যবস্থার এই বিশৃঙ্খলার মূল মুখই হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, শুধু দফতর বদলে চাল ডাল গলবে না, ওঁকে ক্যাবিনেট ছাড়তেই হবে।

অবশেষে সমস্ত দরকষাকষির অবসান ঘটিয়ে শনিবার বিকেলে ইস্তফা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তার পরপরই নিজেদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে সিজেপি। নিজের পদত্যাগপত্রে অবশ্য দেশের স্বার্থের কথাই তুলে ধরেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তর-সহ সারা দেশের এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনও দেশবিরোধী শক্তি যাতে দেশের ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, এবং দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় না আটকে পড়ে, সেই কথা মাথায় রেখেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *